বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী যুক্তরাজ্যের গৃহহীনবিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। পুরোনো এক ভাড়াটিয়াকে বের করে দিয়ে ব্যক্তিগত একটি সম্পত্তির ভাড়া রাতারাতি ৭০০ পাউন্ড বাড়ানোর অভিযোগের মুখে সমালোচনার শিকার হন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে রুশনারার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
দ্বিচারিতার অভিযোগে মানবাধিকার সংস্থা ও বিরোধী দলের নেতারা তার পদত্যাগ দাবি করেন। রুশনারার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি চারজন ভাড়াটিয়াকে বাড়ি বিক্রির অজুহাতে চুক্তি থেকে সরিয়ে দেন। এর ছয় মাসের মধ্যেই সেই বাড়ির ভাড়া বাড়িয়ে ৭০০ পাউন্ড করেন। অথচ এমন চর্চা বন্ধ করতে তিনি নিজেই ‘রেন্টার্স রাইটস’ নামে একটি বিল সংসদে উত্থাপন করেছিলেন।
পদত্যাগপত্রে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে রুশনারা লেখেন, তিনি ভারাক্রান্ত মন নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও সব আইনি বাধ্যবাধকতা তিনি মেনে চলেছেন এবং দায়িত্ব পালনেও সর্বোচ্চ সতর্কতা দেখিয়েছেন। তবে তিনি মনে করছেন, তার মন্ত্রিত্ব সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পদত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ‘সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার’ জন্য রুশনারাকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে গৃহহীনদের বিরুদ্ধে ‘ভ্যাগ্রান্সি অ্যাক্ট’ বাতিল করার ক্ষেত্রে তার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
স্টারমার বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন রুশনারা আলী পেছন থেকে সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবেন এবং বেথনালগ্রিন ও স্টেপনি আসনের জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন বলে তিনি আশাবাদী।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের প্রথম বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী। ২০২৪ সালের ৪ জুলাইয়ের নির্বাচনে লেবার পার্টির নিরঙ্কুশ জয়ের পর রুশনারাকে গৃহায়ন, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।
তিনি ২০১০ সাল থেকে টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার বাংলাদেশী অধ্যুষিত বেথনালগ্রিন ও স্টেপনি আসনে লেবার পার্টির এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি টানা পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হন।
সূত্র : বিবিসি



