মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নেতৃত্বাধীন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস ডেনমার্কের সাধারণ নির্বাচনে প্রথম স্থান অধিকার করলেও বামপন্থী জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেনমার্কের সব ভোট গণনা শেষে ১৭৯টি আসনের সংসদে বামপন্থী জোট পেয়েছে ৮৪টি আসন এবং ডানপন্থীরা পেয়েছে ৭৭টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৯০টি আসন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লকে রাসমুসেনের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী মডারেট পার্টি ১৪টি আসন পেয়ে ‘কিংমেকার’-এর ভূমিকায় উঠেছে। ফলে নতুন সরকার গঠনে আগামী সপ্তাহগুলোতে কঠিন আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০১৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ফ্রেডেরিকসেন সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, তিনি আগামী চার বছর ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত।
তবে তিনি স্বীকার করেন যে সরকার গঠন করা সহজ হবে না।
এর আগে রাসমুসেন বলেছিলেন, তিনি বাম-ডান উভয় শিবিরের সমন্বয়ে একটি জোট সরকার দেখতে চান।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিভক্ত হতে পারি না। আমরা শুধু লাল (বাম) বা নীল (ডান) হতে পারি না। আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে।’
জোটসঙ্গী ট্রোয়েলস লুন্ড পোলসেনের নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের সাথে নতুন সরকার গঠনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘হয় আমরা মধ্য-ডানপন্থী সরকার গঠন করব, নয়তো বিরোধীদলেই থাকব।’
নির্বাচনের আগে ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত ফ্রেডেরিকসেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবির মোকাবিলায় তার নেতৃত্বের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন।
তবে ঐতিহ্যগত ভাবে দেশের বৃহত্তম দল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস এবার মাত্র ২১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা ১৯০৩ সালের পর তাদের সর্বনিম্ন ফল এবং ২০২২ সালের থেকে কম। ওই বছর তারা ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
এদিকে পিয়া ওলসেন দ্যরের নেতৃত্বাধীন গ্রিন লেফট পার্টি শক্তিশালী ফলাফল অর্জন করে বাম জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে।
তিনি জানান, তারা কল্যাণ ও পরিবেশগত রূপান্তরকে অগ্রাধিকার দিতে চায়, আর এটা না হলে তারা সরকারে যোগ দেবে না।
অভিবাসন-বিরোধী ডেনিশ পিপলস পার্টি তাদের ভোট প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে ৯ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত করেছে।
দলটির নেতা মর্টেন মেসারশমিড্ট একে জনগণের শক্ত সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ডেনমার্কের সংসদে চারটি আসন তাদের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য সংরক্ষিত, গ্রিনল্যান্ডের জন্য দু’টি ও ফারো দ্বীপপুঞ্জের জন্য দু’টি। গ্রিনল্যান্ডের ভোট এখনো গণনা হয়নি।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, এটি গ্রিনল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংসদ নির্বাচন।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এমন এক সময়ে আছি, যখন একটি পরাশক্তি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে। এটি একটি গুরুতর পরিস্থিতি।’
নিলসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ডের সব দলই একমত যে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যেই হোক, আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে।
ডেনমার্কে নির্বাচনী প্রচারণায় গ্রিনল্যান্ড ইস্যু খুব একটা গুরুত্ব পায়নি, বরং মূল্যস্ফীতি, কল্যাণনীতি, পরিবেশ ও অভিবাসনই ছিল প্রধান আলোচ্য বিষয়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফ্রেডেরিকসেন কট্টর ডানপন্থীদের প্রভাব কমাতে অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোরতা আরোপের পক্ষে মত দিয়েছেন।
তিনি বলেন, নতুন সংসদেও কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে।
সূত্র : বাসস



