রেকর্ড খরায় তলানিতে ঠেকেছে দানিয়ুব নদীর পানি। শীতলীকরণ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় নিজেদের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শেষ পরমাণু চুল্লিটিও বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে রোমানিয়া। এতে চরম বিদ্যুৎ সংকটে পড়েছে দেশটি। একই সাথে প্রতিবেশী দেশ মলদোভাতেও ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জানায়, রোমানিয়ার চেরনাভোদা কেন্দ্রে অবস্থিত ৭০৬ মেগাওয়াটের দুটি চু্ল্লি থেকে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ সরবরাহ করা হতো। নদীর পানি কমে যাওয়ায় জুলাইয়ের শেষদিকে প্রথম চুল্লিটি বন্ধ করা হয়। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়টি বন্ধ ঘোষণা করে পরিচালনকারী প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ারইলেকট্রিকা জানায়, আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ চুল্লি চালু করা সম্ভব নয়।
পরিস্থিতি সামলাতে গোটা আগস্ট মাসজুড়ে জরুরি জ্বালানি অবস্থা জারি করেছে রোমানিয়ার সরকার। পিক আওয়ারে সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৩৩০ মেগাওয়াটের একটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি বায়ু ও পানিবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সরকার সতর্ক করেছে, ঘাটতি না মিটলে শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হতে পারে। ইতিমধ্যেই ডাকিয়া ও ফোর্ড গাড়ির কারখানা ১৯ আগস্ট পর্যন্ত উৎপাদন স্থগিত রেখেছে।
এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়েছে মলদোভায়। দেশটি তাদের বিদ্যুৎ ঘাটতির প্রায় ৬০ শতাংশই মেটায় রোমানিয়ার বিদ্যুৎ দিয়ে। আমদানি বন্ধ হওয়ায় এখন ইউক্রেন বা পশ্চিমা দেশগুলো থেকে চড়া দামে বিদ্যুৎ কেনা অথবা এলাকাভিত্তিক বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ছাড়া মলদোভার সামনে কোনো পথ খোলা নেই।
ইউরোপীয় জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাসের তথ্য মতে, গত ৩৪ বছরের মধ্যে জুলাইয়ে দানিয়ুব নদীর দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় সর্বনিম্ন প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। একই সমস্যার মুখে পড়েছে ফ্রান্স ও হাঙ্গেরিও। ফ্রান্সে খরা ও চরম গরমের কারণে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। আর হাঙ্গেরি তাদের পাকস পারমাণবিক কেন্দ্রের পাশে নদীর পানি ধরে রাখতে কৃত্রিম বাঁধ ও বার্জ বসানোর ব্যবস্থা করছে। সব মিলিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি পুরো ইউরোপ।



