ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান। গণমাধ্যমটি বলেছে, ইউরোপের এই নীরবতা শুধু অনৈতিক নয়। বরং তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কার্যত আত্মসমর্পণেরই শামিল।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি ভয়াবহ অপরাধের বিষয়ে ইউরোপের নীরবতা এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ কার্যত মেনে নেয়ার পর এবার ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে আগ্রাসনের ক্ষেত্রেও ইউরোপ একই ধরনের কৌশলগত ভুল করেছে।
ইউরোপীয় নেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট ও অস্বচ্ছ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইউরোপের দেশগুলোর সাথে উপনিবেশের মতো আচরণ করার সুযোগ করে দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপ কার্যত নিজেই নিজের কূটনৈতিক অবস্থান দুর্বল করে তুলছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে কেবল স্পেন এবং কয়েকটি ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার স্পষ্ট ও প্রকাশ্য নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টসহ কিছু নেতা শুধু সীমিত আকারে আন্তর্জাতিক আইনের কথা উল্লেখ করেছেন। আবার ইতালির প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা ভেনিজুয়েলার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের হামলাকে ‘বৈধ আত্মরক্ষা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
গার্ডিয়ান ইউরোপের এই নীরবতার পেছনের কারণও বিশ্লেষণ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে, ট্রাম্পের ক্ষোভের আশঙ্কা এবং ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ভয়, গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে উদ্বেগ এবং ভেনিজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়িয়ে রাশিয়ার তেল আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশলগত স্বার্থ- এসবই ইউরোপের নীরবতার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র যে ‘জঙ্গলের আইন’ চাপিয়ে দিতে চাইছে, তা মেনে নেয়া এবং ইউরোপের এই আত্মসমর্পণ বিশ্ববাসীর কাছে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বার্তা পাঠায়। এর ফলে বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইউরোপ যদি এভাবে নীরবতা বজায় রাখে, তবে তা শুধু ভেনিজুয়েলার জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক ব্যবস্থার জন্যও গভীর সঙ্কট ডেকে আনবে।
ইউরোপের উচিত একক ও দৃঢ় কণ্ঠে ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের নিন্দা জানানো এবং স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেয়া। নীরবতা ও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে ইউরোপ যেন পরাশক্তিগুলোর রাজনৈতিক খেলনার ভূমিকা না নেয়, সে বিষয়েও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে গার্ডিয়ান।
সূত্র : গার্ডিয়ান



