রাশিয়ার তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, পাল্টা হামলা জোরদার

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তির বরাত দিয়ে জানা যায়, সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হয়েছে রোস্তভ ওব্লাস্টের তাগানরগ শহরে। সেখানে একটি বন্দরে ট্যাঙ্কার, জ্বালানি ট্যাঙ্ক এবং প্রশাসনিক ভবনে আগুন লাগে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে সমন্বিত ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন । স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে এসব হামলা চালানো হয়। একই সময়ে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে উভয় পক্ষের সূত্রে জানা গেছে। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ আরও তীব্র আকার নিয়েছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তির বরাত দিয়ে জানা যায়, সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হয়েছে রোস্তভ ওব্লাস্টের তাগানরগ শহরে। সেখানে একটি বন্দরে ট্যাঙ্কার, জ্বালানি ট্যাঙ্ক এবং প্রশাসনিক ভবনে আগুন লাগে। ফলে বিস্তৃত এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

রোস্তভের গভর্নর ইউরি স্লিওসার রাশিয়ার রাষ্ট্র-সমর্থিত মেসেজিং অ্যাপে দেয়া বার্তায় বলেন, “ড্রোন হামলায় তাগানরগ বন্দরে একটি ট্যাঙ্কার, একটি জ্বালানি ট্যাঙ্ক এবং প্রশাসনিক ভবনে আগুন লাগে। প্রাথমিকভাবে কোনো প্রাণহানির তথ্য নেই, তবে বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।”

তিনি আরো জানান, তাগানরগে পৃথক একটি ড্রোন হামলায় একটি আবাসিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দুই বেসামরিক নাগরিক আহত হন। চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাতভর চারটি জেলায় একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এতে তাগানরগ, চের্তকভস্কি, মাতভেয়েভো-কুরগানস্কি ও নেকলিনোভস্কি জেলায় ড্রোন ধ্বংস করা হয়। কিছু এলাকায় বাড়িঘর ও গ্যাস লাইনে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে, তবে হতাহতের তথ্য নেই।

এছাড়া ক্রাসনোদর ক্রাইয়ের আরমাভির এলাকায় একটি তেল স্থাপনায় হামলা এবং ইয়ারোস্লাভলের কাছে জ্বালানি ট্যাঙ্কে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। ভলগোগ্রাদ অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতারাতি প্রায় ৯০টি ড্রোন এবং দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ১৩ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সুমি অঞ্চলে অবকাঠামো, আবাসিক ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে নতুন বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি পশ্চিমা মিত্রদের দ্রুত প্রতিরক্ষা সহায়তা, বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানান।

এর আগে রাশিয়া বিদেশিদের কিয়েভ ছাড়ার সতর্কতা জারি করে এবং শহরজুড়ে কৌশলগত স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলার পরিকল্পনার কথা জানায় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র উল্লেখ করেছে।

এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা ও রাশিয়ার পাল্টা অভিযানের ফলে দুই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে উত্তেজনা আরো বেড়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা