ফিলিস্তিনকে অবিলম্বে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান যুক্তরাজ্যের ৫৯ এমপির

‘ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে আমরা দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের আমাদের নিজস্ব নীতিকে দুর্বল করছি। এর ফলে এই বার্তা যায় যে বর্তমান দখলদারিত্ব ও স্থিতাবস্থা অব্যাহত রাখা যাবে, যা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে ধীরে ধীরে দখল ও অন্তর্ভুক্তির পথ তৈরি করে দেয়।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা |সংগৃহীত

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গাজাবাসীদের রাফাহ শহরের ধ্বংসস্তূপে একটি আশ্রয় শিবিরে জোর করে পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর যুক্তরাজ্যের ৫৯ জন লেবার পার্টির এমপি অবিলম্বে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে গাজায় চলমান ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নিতেও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (১২ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠিটি পাঠানো হয় গত বৃহস্পতিবার। লেবার ফ্রেন্ডস অফ প্যালেস্টাইন অ্যান্ড দ্য মিডল ইস্ট নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে এই চিঠি পাঠানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন ৫৯ জন এমপি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সোমবার ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে আমরা আপনাকে লিখছি যে তিনি গাজার সব ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিককে জোরপূর্বক ধ্বংসপ্রাপ্ত রাফাহ শহরের একটি শিবিরে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা করছেন।’

তারা আরো লেখেন, ‘তার এই পরিকল্পনাকে একজন শীর্ষস্থানীয় ইসরাইলি মানবাধিকার আইনজীবী মাইকেল স্ফার্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য একটি কার্যকরী পরিকল্পনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যদিও এটি একটি সঠিক বর্ণনা, আমরা বিশ্বাস করি এর চেয়েও স্পষ্ট একটি বর্ণনা আছে। আর তা হলো, গাজার জাতিগত নির্মূল।’

চিঠিতে মন্ত্রীরা পাঁচটি ভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকটি সরকার ইতোমধ্যেই অনুসরণ করছে, যেমন- ফিলিস্তিন শরণার্থীদের সহায়তায় জাতিসঙ্ঘ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’র অর্থায়ন পুনরায় চালু করা এবং গাজায় আটক ইসরাইলি পণবন্দীদের মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা। অন্যান্য বিষয়গুলো মধ্যে রয়েছে পশ্চিমতীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনের ওপর বাণিজ্য অবরোধ আরোপ করা এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক স্বীকৃতি।

এমপিরা চিঠিতে সতর্ক করে বলেন, ‘ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে আমরা দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের আমাদের নিজস্ব নীতিকে দুর্বল করছি। এর ফলে এই বার্তা যায় যে বর্তমান দখলদারিত্ব ও স্থিতাবস্থা অব্যাহত রাখা যাবে, যা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে ধীরে ধীরে দখল ও অন্তর্ভুক্তির পথ তৈরি করে দেয়।’