গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের কাছে সালামিস দ্বীপে ভয়াবহ দু’টি দাবানল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুনে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৬০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দেশটির ফায়ার সার্ভিস এ তথ্য জানিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের একজন মুখপাত্র বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, এখন আর আগুনের কোনো সক্রিয় অংশ নেই।’
তিনি জানান, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় দু’টি হেলিকপ্টার ও ২০০ জনের বেশি দমকলকর্মী এখনো কাজ করছেন।
রোববার এথেন্সের ঠিক পশ্চিমে অবস্থিত পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় সালামিস দ্বীপের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ঘনবসতিপূর্ণ কয়েকটি সৈকতের কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর প্রায় ৬০০ মানুষকে নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়।
দেশটির বেসামরিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্রুত লোকজনকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিলেও প্রবল বাতাসের কারণে মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে আগুন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে নিজেদের বাড়ির কাছে এক বৃদ্ধ দম্পতি আটকা পড়েন এবং পরে তাদের দু’জনেরই মৃত্যু হয়। সোমবারও দগ্ধ তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ চললেও গ্রিসের পরিস্থিতি শুরুতে তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক ছিল। তবে জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে দেশটিতে একের পর এক বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। প্রবল বাতাস এসব আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
গ্রিসের ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে ৩৬টি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত দেশটির পাঁচজন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ডেনমার্কের পাইলটও রয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে এথেন্সের কাছে একটি দাবানল নেভানোর সময় দু’টি হেলিকপ্টারের আকাশপথে সংঘর্ষে তিনি নিহত হন।
সূত্র: বাসস



