রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্বীকার করেছেন যে, ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার কারণে রাশিয়ায় কিছুটা জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, এটি এখনো ‘গুরুতর নয়’।
রোববার (২৮ জুন) ক্রেমলিন প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, গত চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনের হামলার পর, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পর থেকেই রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেনের শহর, বেসামরিক নাগরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে। এর জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত তেল শোধনাগার ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় পাল্টা আক্রমণ পরিচালনা করে আসছে।
এসব হামলাকে ‘ন্যায্য প্রতিশোধ’ বলে দাবি করে ইউক্রেন।
পুতিন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার ক্ষেত্রে, এসব আক্রমণ আমাদের অবকাঠামোতে সমস্যা তৈরি করে। এটা স্পষ্ট।
তিনি বলেন, ‘এখন আমরা কিছুটা জ্বালানির ঘাটতি লক্ষ্য করছি, তবে এটি সঙ্কটজনক কিছু নয়।’
তিনি আরো জানান, রাশিয়ার এখন প্রধান কাজ হলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং বিশেষ করে, ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।
সাক্ষাৎকারে রুশ প্রেসিডেন্ট আশা করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আলোচনা করতে মস্কো সফর করবে।
রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়ার কর্তৃপক্ষ শুক্রবার জ্বালানির ঘাটতি ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে। এর পেছনে ইউক্রেনের লজিস্টিক চেইন ও তেল স্থাপনাগুলোতে চালানো হামলাকে দায়ী করা হয়েছে।
রাশিয়া ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে ওই অঞ্চলটি সংযুক্ত করে নেয়, তবে এই পদক্ষেপকে বিশ্বের বেশিভাগ দেশ স্বীকৃতি দেয়নি।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে, ইউনাইটেড রাশিয়া দলের কংগ্রেসে দেয়া এক ভাষণে পুতিন প্রতিশ্রুতি দেন যে রাশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা হবে।
ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে পাল্টা হামলা জোরদার করার প্রেক্ষিতে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
সূত্র: বাসস



