ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাণিজ্য প্রধান বলেছেন, ২৭ সদস্যের এ সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি বাণিজ্য চুক্তি করতে অঙ্গীকারবদ্ধ, তবে তার ভিত্তি হবে ‘সম্মান’, হুমকি নয়।
শনিবার (২৪ মে) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইইউ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত সব পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়ার পর সংস্থাটির দিক থেকে এমন বক্তব্য এলো।
সেই সাথে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হয়নি, এমন সব আইফোনে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করতে পারেন। পরে তিনি বলেন, সব স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এ শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
’উভয়পক্ষের জন্য কার্যকর একটি চুক্তি করতে ইইউ পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ,’ ইইউ ট্রেড কমিশনার মারোস সেফকভিস বলেছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির ও বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
’ইইউ-ইউএস বাণিজ্য পরিচালিত হবে পারস্পারিক সম্মানের ভিত্তিতে, হুমকি নয়। আমরা আমাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তুত আছি।’
এর আগে, শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনার ধীরগতিতে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, তার পরিকল্পনা হলো ১ জুন থেকেই শুল্ক কার্যকর করা।
ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় বলেছেন, ‘তাদের সাথে আমাদের আলোচনা কোনো দিকে অগ্রসর হচ্ছে না।’
গত মাসে ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। তবে পরে আলোচনার জন্য সময় দিতে এর অর্ধেক ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করে ১০ শতাংশ বহাল রাখেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হওয়া বা নির্মিত পণ্যের ওপর কোনো শুল্ক থাকবে না।
’আমি কোনো চুক্তির সন্ধান করছি না- আমরা চুক্তিটি তৈরি করেছি,’ ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন। এরপর তিনি বলেন ইউরোপের কোনো কোম্পানির যুক্তরাষ্ট্রে বড় বিনিয়োগ হলে তিনি এ নিয়ে বিলম্ব করতে রাজি আছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হিসেবে ইইউ বছরে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য পাঠায় আর ৩৭০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করে।
ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপের সরকারগুলো সতর্ক করে বলেছে উচ্চহারে শুল্ক আরোপ হলে তাতে উভয়পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন বলেছেন, ’আমাদের এ পথে যাওয়া উচিত হবে না। এগিয়ে যাওয়ার জন্য আলোচনাই সর্বোত্তম ও টেকসই পথ।’
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ’আমরা একই পথে আছি- উত্তেজনা কমানো, আবার আমরা জবাব দিতেও প্রস্তুত আছি।’
জার্মানির অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী ক্যাথেরিনা ঘাইচা বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে একটি সমাধানে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে আমাদের সবকিছুই করতে হবে।’
ডাচ প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কুফ সাংবাদিকদের বলেছেন, বাণিজ্য আলোচনায় ইইউ যে কৌশল নিয়েছে তাকে তিনি সমর্থন করছেন। ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় আগেও আমরা শুল্ক কমতে ও বাড়তে দেখেছি।’
ট্রাম্পের অভিযোগ হলো ইউরোপ অসম বাণিজ্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চায় কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করে তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করে।
তিনি বলেন, এ বাণিজ্য ঘাটতি মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য অন্যায্য। বিশেষ করে তিনি গাড়ী ও কৃষিপণ্যের বিষয়ে থাকা নীতিগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্প অ্যাপলকেও সতর্ক করে বলেন, আইফোন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি না হলে আরো ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রয়োগ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। পরে এটি অন্য স্মার্টফোনের জন্যও প্রযোজ্য হবে বলে জানান।
ওদিকে ট্রাম্পের হুমকির পর শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে শেয়ার বাজারের দরপতন হয়েছে।



