স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনা : নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯

স্পেনের আন্দালুসিয়ায় দু’টি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনার কারণে মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে সব ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯
স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯

স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়ায় গতকাল রোববার সন্ধ্যায় দু’টি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

আজ সোমবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। আগে ২১ জনের নিহতের কথা বলা হয়েছিল।

স্পেনের রেল নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ জানায়, রোববার সন্ধ্যায় মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী একটি দ্রুতগতির ট্রেন আদামুজের কাছে লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে পাশের আরেকটি লাইনে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভাগামী আরেকটি ট্রেনের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

আন্দালুসিয়ার জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন।

স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী পুয়েন্তে বলেন, ঘটনাটি ‘খুবই অস্বাভাবিক’, কারণ ট্রেনটি সোজা লাইনে লাইনচ্যুত হয়েছে। ওই রেললাইনটি গত বছরের মে মাসে নতুন করে সংস্কার করা হয়েছিল।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, দেশটি এক ‘গভীর শোকের এক রাত’ পার করছে। মালাগা থেকে যাত্রা করা ট্রেনটি পরিচালনা করছিল বেসরকারি রেল কোম্পানি ইরিও।

ইরিও জানিয়েছে, ওই ট্রেনে প্রায় ৩০০ জন যাত্রী ছিলেন। আর রাষ্ট্রায়ত্ত রেল কোম্পানি রেনফে পরিচালিত অন্য ট্রেনটিতে ছিল প্রায় ১০০ জন যাত্রী।

আদামুজের মেয়র রাফায়েল মোরেনো দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি বলেন, দৃশ্যটি ছিল ‘একটি দুঃস্বপ্নের মতো’।

দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে সব ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ইতালির রেল কোম্পানি ফেরোভিয়ে দেল্লো স্তাতোর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার শিকার ট্রেনটি ছিল ফ্রেচিয়া ১০০০ মডেলের, যা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে।

আরটিভিইর সাংবাদিক সালভাদোর জিমিনেস দুর্ঘটনাকবলিত একটি ট্রেনে ছিলেন। তিনি বলেন, ধাক্কাটা ছিল ভূমিকম্পের মতো। ‘আমি প্রথম বগিতে ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো যেন ভূমিকম্প হচ্ছে, আর এরপরই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে জিমিনেস জানান, তীব্র ঠান্ডার মাঝে যেসব যাত্রীরা বাসের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাদের মাঝে তিনিও ছিলেন।

স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ ও রানি লেতিসিয়া এই দুর্ঘটনার খবরে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন।

রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে এক্সে বলা হয়েছে, ‘নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’