ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন দফা শান্তি আলোচনা আগামী বুধবার তুরস্কে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোমবার রাতে প্রতিদিনকার ভাষণে এক শীর্ষস্থানীয় কিয়েভ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে তিনি এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে জেলেনস্কি আলোচনায় গতি আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা তাস তুরস্কের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আলোচনাটি বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। আরো একটি রুশ বার্তাসংস্থা আরআইএ এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আলোচনাটি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিন ধরে অনুষ্ঠিত হবে।
অপরদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা আলোচনার তারিখ নিশ্চিত করার জন্য অপেক্ষা করছে। তবে যুদ্ধের অবসানের বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ‘সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী’।
জেলেনস্কি রাতে তার ভিডিও বার্তায় বলেন, তুরস্কে বন্দী বিনিময় এবং রাশিয়ার সাথে আরেকটি বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে সোমবার তিনি ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব রুস্তেম উমেরভের সাথে কথা বলেছেন। বুধবারের জন্য বৈঠকটি পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে তাকে জানিয়েছেন উমেরভ। আগামীকাল আরো বিস্তারিত জানানো হবে।
ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে সমর্থন করেছে। এদিকে মস্কো বলছে, যুদ্ধবিরতি শুরু করার আগে কিছু নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের শহরগুলোতে লাগাতার আক্রমণ চালিয়েছে। সোমবার রাতে রুশ বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও শত শত ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনও রাশিয়ায় দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে অ্যাজেন্ডা স্পষ্ট- যুদ্ধবন্দীদের ফিরিয়ে দেয়া, রাশিয়ার অপহৃত শিশুদের ফিরিয়ে দেয়া এবং নেতাদের বৈঠকের প্রস্তুতি।’
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ বন্ধে অগ্রগতির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছেন। এর আগে তিনি জেলেনস্কির সাথে সরাসরি দেখা করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘আমাদের একটি খসড়া স্মারকলিপি রয়েছে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকেও একটি খসড়া স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়েছে। এখন এই দুই খসড়ার ওপর মতবিনিময় ও আলোচনা হবে। যদিও এগুলো এখনো পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থানে রয়েছে।’
সূত্র : রয়টার্স



