কিয়েভে হামলা প্রমাণ করে রাশিয়া শান্তি চায় না : জেলেনস্কি

পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে চান না উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, ‘রুশ প্রতিনিধিরা দীর্ঘ আলোচনা করছেন, কিন্তু বাস্তবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তাদের পক্ষে কথা বলছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) নতুন করে শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বলেছেন, রাতভর কিয়েভে রাশিয়ার তীব্র আক্রমণ প্রমাণ করে যে তারা ‘শান্তি চায় না’।

জেলেনস্কি ফ্লোরিডা যাওয়ার পথে এই মন্তব্য করেছেন। আজ রোববার সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তিনি দেখা করবেন এবং মার্কিন ও ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূতদের সম্মত একটি নতুন ২০-দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন।

এদিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেনের রাজধানীতে ১০ ঘণ্টা ধরে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছে। ইউক্রেনের উন্নয়ন-বিষয়ক মন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবার মতে, জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে কিয়েভ ও আশপাশের এলাকাগুলোর ৪০ শতাংশ আবাসিক ভবনে উষ্ণ রাখার ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোগুলো লক্ষ্য করে নির্ভুলভাবে দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের দাবি, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী এবং ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের উদ্যোগগুলোর স্বার্থে এসব জ্বালানি অবকাঠামো ব্যবহার করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কিয়েভের দিকে প্রায় ৫০০ ড্রোন ও ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রাশিয়া। জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের দারনিতস্কি এলাকায় প্রবীণ মানুষদের একটি আবাসস্থল থেকে ৬৮ জনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে চান না উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, ‘রুশ প্রতিনিধিরা দীর্ঘ আলোচনা করছেন, কিন্তু বাস্তবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তাদের পক্ষে কথা বলছে।’

মিত্রদের রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘এই কার্যকলাপের জবাব কেবল শক্তিশালী পদক্ষেপের মাধ্যমেই দেয়া যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই সুযোগ আছে, ইউরোপের কাছে এই সুযোগ আছে, আমাদের অনেক অংশীদারের কাছে এই সুযোগ আছে।’

সূত্র : বিবিসি