ইউরোপজুড়ে একের পর এক তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে জার্মানিতে এ গ্রীষ্মে রেকর্ড ১৫ হাজার ৮০০ জনের তাপদাহজনিত মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে।
রবার্ট কোচ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষ। জুনের শেষদিকে এক সপ্তাহে প্রায় নয় হাজার ৬০০ জনের তাপদাহজনিত মৃত্যু রেকর্ড করা হয়। ওই সময়ে জার্মানিতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।
ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের শেষ থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত আরো প্রায় চার হাজার তাপদাহজনিত মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
এ গ্রীষ্মে ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র তাপ ও খরা আঘাত হেনেছে। এর ফলে তাপদাহজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে, পাশাপাশি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয়েছে এবং প্রধান প্রধান নদীতে পানির স্তর কমে গেছে।
ইনস্টিটিউট জানায়, তারা গত এক দশক ধরে এ ধরনের তাপদাহজনিত মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করছে। এর আগে, ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ আট হাজার ৯০০ তাপদাহজনিত মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছিল। এর বাইরে একটি চিকিৎসাবিষয়ক প্রকাশনার পৃথক প্রতিবেদনে ১৯৯৪ সালে ১০ হাজার তাপদাহজনিত মৃত্যুর হিসাব দেয়া হয়েছিল।
তীব্র তাপ সরাসরি মৃত্যুর কারণ হতে পারে, যেমন হিটস্ট্রোকের মাধ্যমে। তবে বেশিভাগ ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র, ফুসফুস বা কিডনির রোগের মতো আগে থেকেই থাকা শারীরিক সমস্যার সাথে তীব্র তাপ যুক্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়।
আরকেআই পরিসংখ্যানভিত্তিক পদ্ধতিতে তাপদাহজনিত মৃত্যুর হিসাব করে। এক্ষেত্রে গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহ চলাকালীন এবং তাপপ্রবাহ না থাকা সপ্তাহগুলোর মৃত্যুর সংখ্যা তুলনা করা হয়।
সূত্র : বাসস



