জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাইপজিগে সোমবার বিকেলে শহরের ব্যস্ততম এলাকায় হুট করেই একটি গাড়ি সাধারণ মানুষের ভিড়ের ওপর উঠে পড়লে অন্তত দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। লাইপজিগের মেয়র বুখার্ড ইয়ুং জানিয়েছেন, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩৩ বছর বয়সী এক জার্মান নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে ঠিক কী কারণে তিনি এই কাজ করেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ঘটনায় সব মিলিয়ে ২২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে সেই মুহূর্তের আতঙ্কের চিত্র। সুজি নামের এক নারী জানান, তিনি যখন তার বন্ধুর সাথে রাস্তার ধারের একটি বেঞ্চে বসে ছিলেন, তখন হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পান। তিনি দেখেন একটি গাড়ি প্রচণ্ড গতিতে ছুটে আসছে। প্রাণ বাঁচাতে তারা দ্রুত পাশের একটি গহনার দোকানে আশ্রয় নেন। পরে বাইরে বেরিয়ে দেখেন রাস্তায় মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গাড়িটি শেষ পর্যন্ত কিছু বোল্ডারের সাথে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। তখন স্থানীয় অন্তত ১৫ জন মানুষ মিলে চালককে আটকানোর চেষ্টা করেন এবং তাকে জানলা দিয়ে টেনে বের করার চেষ্টা চালান। ঠিক সেই মুহূর্তেই পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তির হাত বেঁধে ফেলে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ৬৩ বছর বয়সী এক নারী এবং ৭৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ রয়েছেন, যারা দুজনেই জার্মানির নাগরিক।
ওই রাজ্যের প্রধান মাইকেল ক্রেটশমার জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি আগে থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
পুলিশ ও সরকারি কৌঁসুলিরা এই ঘটনাকে একটি ‘উন্মত্ত হামলা’ হিসেবে দেখছেন। এখন পর্যন্ত এর পেছনে কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা মনে করছেন, এটি এক ব্যক্তিরই কাজ এবং জননিরাপত্তার ওপর আর কোনো হুমকি নেই। বর্তমানে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা এবং হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
সূত্র : বিবিসি



