মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ইউরোপকে উৎসাহিত করবে : জার্মানি

জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ইউরোপকে তার নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে উৎসাহিত করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস
জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস |সংগৃহীত

জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ইউরোপকে তার নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে উৎসাহিত করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস।

শনিবার (২ মে) তিনি বলেন, এই পদক্ষেপে বিচলিত না হয়ে বরং ইউরোপের উচিত নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো মজবুত করার পদক্ষেপ জোরদার করা।

তবে এই সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। শীর্ষ রিপাবলিকান নেতারা এই সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধিতা করে জানিয়েছেন, ইউরোপ থেকে সেনা সরানো রাশিয়ার কাছে ভুল বার্তা পাঠাবে।

পেন্টাগন গত শুক্রবার জার্মানি থেকে এই বিশাল সংখ্যক সেনা কমানোর ঘোষণা দেয়। মূলত ইরান যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধ এবং বাণিজ্যিক শুল্ক নিয়ে ওয়াশিংটন ও ইউরোপের মধ্যে চলা টানাপোড়েন এই সম্পর্কের অবনতির পেছনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সাথে সাথে জার্মানিতে দূরপাল্লার টোমাহক মিসাইল মোতায়েন করার একটি পুরোনো পরিকল্পনাও বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার হাত থেকে বাঁচতে বার্লিন এই মিসাইল মোতায়েনের ওপর বেশ ভরসা করছিল, ফলে একে জার্মানির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি পাঁচ হাজারের চেয়েও অনেক বেশি সেনা কমিয়ে আনার কথা ভাবছেন।

মার্কিন হাউস ও সিনেটের দুই প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা রজার উইকার এবং মাইক রজার্স এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কাজ শেষ হওয়ার আগে এভাবে ইউরোপ থেকে হাত গুটিয়ে নেয়া ভ্লাদিমির পুতিনকে সুযোগ করে দেবে। তারা মার্কিন সেনাদের পুরোপুরি সরিয়ে না এনে বরং ইউরোপের পূর্ব দিকে মোতায়েন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক একে পশ্চিমা জোটের মধ্যে ভাঙনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন এবং সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী পুরো বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তার মতে, বর্তমানে জার্মানিতে থাকা প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনার একটি অংশ চলে গেলে তা ইউরোপীয়দের নিজেদের নিরাপত্তার দায় নিতে বাধ্য করবে। জার্মানি ইতোমধ্যেই তাদের সৈন্য সংখ্যা এক লাখ ৮৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ ৬০ হাজার করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জার্মানিতে মার্কিন সেনাদের বিশাল উপস্থিতি ছিল। এমনকি স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও কয়েক লাখ মার্কিন সৈন্য এখানে ছিল। এখন সম্পর্কের এই নতুন সমীকরণে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে অনেকে কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার চেয়ে হঠকারী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন।

সূত্র: রয়টার্স