জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা কমানোর পেন্টাগনের সিদ্ধান্তকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন দুই প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা। তারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে এবং ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে একটি নেতিবাচক সংকেত পাঠাবে।
সিনেট ও হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটির দুই চেয়ারম্যান রজার উইকার এবং মাইক রজার্স এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইউরোপীয় মিত্ররা যখন তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াচ্ছে, তখন এমন সময়ে সেনা প্রত্যাহার করা হঠকারিতা হবে। তাদের মতে, এই সেনাদের মহাদেশ থেকে সরিয়ে না নিয়ে বরং আরো পূর্ব দিকে মোতায়েন করা উচিত।
এদিকে পেন্টাগন দাবি করেছে, বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনীয়তা বিচার করেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সেনা হ্রাসের এই পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। বর্তমানে জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬ হাজারেরও বেশি নিয়মিত সৈন্য রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে। জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বিষয়টিকে আগে থেকেই ধারণা করা যাচ্ছিল বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, ইউরোপ বিশেষ করে জার্মানিতে মার্কিন উপস্থিতি যেমন জার্মানির স্বার্থে, তেমনি খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরও স্বার্থে। ন্যাটো জোটও এই বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে।
পাশাপাশি হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, এর পেছনে কোনো জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নেই, বরং এটি স্রেফ প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন। তবে রিপাবলিকান নেতা ক্লে হিগিন্স এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে জার্মানদের প্রতি কিছুটা তাচ্ছিল্য প্রকাশ করেছেন।
এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের সাম্প্রতিক বাদানুবাদকেও দায়ী করা হচ্ছে। চ্যান্সেলর মার্জ মন্তব্য করেছিলেন যে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র অপমানিত হয়েছে, যা ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করে। এরপরই ৫ হাজার সৈন্য কমানোর এই ঘোষণা সামনে আসে। ট্রাম্প আরো জানিয়েছেন, তিনি ইতালি এবং স্পেন থেকেও সৈন্য সরিয়ে নেয়ার কথা ভাবছেন। ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের মধ্যে এখন বড় দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে যে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত জোটের ঐক্য নষ্ট করতে পারে।
পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বাইরের শত্রুর চেয়ে জোটের ভেতরে এই ভাঙনই ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্প্রদায়ের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ওদিকে জার্মানি এখন তাদের মোট জিডিপির ৩.১ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে, যা ন্যাটোর নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়েও বেশি। পেন্টাগন জানিয়েছে, আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শেষ হবে।
সূত্র: বিবিসি



