ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছেড়ে দেয়ার দাবিতে আপস করবেন না পুতিন

পুতিন বলেন, ‘যদি বিরোধী দেশ ও তার বিদেশী পৃষ্ঠপোষকরা আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে রাশিয়া সামরিক উপায়ে তার ঐতিহাসিক ভূমি পুনরুদ্ধার করবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন |সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছেড়ে দেয়ার দাবিতে কোনো আপস করবেন না।

শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করার জন্য মার্কিন ও ইউরোপীয় নেতারা যখন তীব্র কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন, তখন এক ভাষণে পুতিন ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, প্রয়োজনে রাশিয়া বলপ্রয়োগের মাধ্যমে অঞ্চল দখল করবে।

তিনি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক সভায় বলেন, ‘আমরা কূটনীতির মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান এবং সংঘাতের মূল কারণগুলো দূর করতে আগ্রহী।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি বিরোধী দেশ ও তার বিদেশী পৃষ্ঠপোষকরা আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে রাশিয়া সামরিক উপায়ে তার ঐতিহাসিক ভূমি পুনরুদ্ধার করবে।’

ঐতিহাসিক ভূমি বলতে তিনি মূলত সেই অঞ্চলগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন যা তিনি ইউক্রেনের কাছ থেকে দাবি করছেন। আর এই বিষয়টিই চলমান শান্তি আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভূখণ্ড সংক্রান্ত এই অমীমাংসিত প্রশ্নসহ ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টি শান্তি আলোচনার সময় সমাধান করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও রাশিয়ার মধ্যকার পরস্পরবিরোধী অগ্রাধিকারকে স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

রাশিয়া ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চল অবৈধভাবে দখল করেছে কিন্তু এটি সম্পূর্ণরূপে জয় করতে পারেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার-এর বিশ্লেষণ অনুসারে, বর্তমান অগ্রগতির হার বজায় থাকলে পুরো দনবাস অঞ্চলটি দখল করতে রাশিয়ার ২০২৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময় লাগবে।

সূত্র : সিএনএন