ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ড্রোন তৈরির সামরিক কারখানা এবং ওডেসা অঞ্চলের জ্বালানি ডিপোতে জোরদার হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এই কারখানায় প্রতি মাসে প্রতি মাসে শত শত ড্রোন তৈরি করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আরটি রোববার (২৬ জুলাই) এ কথা জানিয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভের লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল ‘স্মার্ট ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তারা বিভিন্ন ধরনের ড্রোন, মূল বডি বা ফিউসেলেজ, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, নেভিগেশন সুবিধা, অপটিক্স ও ব্যাটারি তৈরি করত। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিম কিয়েভের অন্য একটি ড্রোন সংযোজন ও সংরক্ষণ কেন্দ্রে আঘাত হানা হয়েছে। সেখানে একটি মার্কিন-ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা প্রতি মাসে প্রায় ১,০০০টি ড্রোন তৈরিতে সাহায্য করতেন। এর মধ্যে 'একিউ-৪০০ সাইদ' ও 'একিউ-১০০ বায়োনেট' নামের হামলাকারী ড্রোন এবং 'আরকিউ-১০০ স্কাউট' নামের নজরদারি ড্রোন অন্তর্ভুক্ত।
'একিউ-৪০০' মূলত প্লাইউড বা কাঠ দিয়ে তৈরি এক ধরনের কামিকাজে বা আত্মঘাতী ড্রোন। ড্রোনটি ৭৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে ৪০ কেজি বিস্ফোরক নিয়ে আঘাত হানতে পারে। 'একিউ-৪০০' তৈরি করেছে টার্মিনাল অটোনেমি নামের একটি ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠান। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় ব্রিটিশ ও অস্ট্রেলীয় সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্য এবং একজন ইউক্রেনীয় প্রকৌশলী টার্মিনাল অটোনেমি গড়ে তোলেন।
ওডেসা অঞ্চলের চেরনোমোরস্ক বন্দরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যবহারের জন্য মজুদ জ্বালানি ও লুব্রিকেন্ট ভাণ্ডারেও রুশ হামলায় ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। কিয়েভের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় শহরের তিন জায়গায় আগুন ধরে যায়। দেসনিয়ানস্কি এলাকায় একটি গুদাম ও গাড়ি এবং সোলোমেনস্কি এলাকার একটি অনাবাসিক ভবনে ক্ষয়-ক্ষতি ও অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়া মোট আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩৬টি বিভিন্ন ড্রোনের হামলা চালিয়েছে। খেরসন, জাপোরোঝিয়া, দোনেৎস্ক, দনিপ্রোপেত্রোভস্ক, খারকিভ, সুমি, মিকোলাইভ ও চেরনিহিভেও হামলা করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাজধানীতে তিনজন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১০৪টি ড্রোন তারা ধ্বংস করেছে। তবে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৭টি ড্রোন ১৮টি স্থানে আঘাত হানে। রাশিয়া নিজেদের বেসামরিক অঞ্চলে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে এসব সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে।



