গাজায় ইসরাইলের গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর বৈশ্বিক পদক্ষেপের দাবিতে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে জাতিসঙ্ঘের আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশটি গাজায় ইসরাইলি যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর অনুষ্ঠিত হয়।
সবশেষ নিহতদের মধ্যে আট এবং দশ বছর বয়সী দুই ছেলে রয়েছে। তারা দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পূর্বে বানি সুহেলা শহরে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষ শহরের প্রধান সড়কগুলোতে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা ‘ইসরাইলি গণহত্যার‘ নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনি পতাকাও উড়ায়।
বিক্ষোভের ডাক দেয়া প্রায় ৮০টি বেসরকারি সংস্থা, ইউনিয়ন ও দলের মধ্যে একটি ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন (এএফপিএস)। সংস্থাটির প্রধান অ্যান টুয়াইলন বলেন, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সাত সপ্তাহ পরেও ‘কোনো সমাধান হয়নি’।
তিনি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি একটি প্রতারণামূলক কৌশল। ইসরাইল প্রতিদিন এটি লঙ্ঘন করছে, মানবিক সাহায্য আটকে দিচ্ছে এবং গাজায় ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস করে চলেছে। আমরা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।’
লন্ডন, জেনেভা, রোম ও লিসবনেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। প্যারিস থেকে আল জাজিরার সোনিয়া গ্যালেগো বলেন, আয়োজকরা মূলত ইসরাইলের ওপর একটি ‘টেকসই চাপ’ সৃষ্টির জন্যই এই বিক্ষোভ আয়োজন করেছেন।
ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনে আয়োজকরা জানান, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ‘অপরাধের’ জবাবদিহিতার দাবিতে এবং যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের ‘সুরক্ষার’ দাবিতে এক লাখেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেয়।
ইতালিতে রোমের প্রধান বিক্ষোভে অংশ নেন জাতিসঙ্ঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ দূত ফ্রানচেস্কা আলবানিজ ও জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। বিক্ষোভের আগে ‘ওয়ান্টেড ইন রোমে’র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে প্রায় এক লাখ মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হয়েছিল।
সূত্র : আল জাজিরা



