রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে একটি বিশেষ প্রজাতির ব্যাঙের (ডার্ট ফ্রগ) বিষ ব্যবহার করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্য ও তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের তথ্যমতে, ডার্ট ফ্রগ হলো এক ধরনের ছোট আকারের, উজ্জ্বল রঙের ব্যাঙ যা মূলত মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার রেইনফরেস্টে পাওয়া যায়। এদের শরীরের ত্বকে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রাকৃতিক বিষ থাকে। আদিম যুগে শিকারিরা এই বিষ তীরের অগ্রভাগে ব্যবহার করে শিকার করতো বলে জানা যায়।
সাইবেরিয়ার একটি রুশ বন্দিশিবিরে নাভালনির মৃত্যুর দুই বছর পর, তার দেহে পাওয়া উপাদানের নমুনা বিশ্লেষণ করে যুক্তরাজ্য ও মিত্র দেশগুলো এই দাবি করে এবং এর পেছনে ক্রেমলিনকে দায়ী করে।
জার্মানির মিউনিখে নিরাপত্তা বিষয়ক সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উভেত কুপার বলেন, ‘রাশিয়ার কারাগারে নাভালনি বন্দী থাকা অবস্থায় এই বিষ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কেবল রুশ সরকারেরই সক্ষমতা, উদ্দেশ্য এবং সুযোগ ছিল।’
যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপের মিত্র দেশগুলোও একই দাবি করে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই বিষ, যা এপিবাটিডিন নামেও পরিচিত, সেটি প্রাকৃতিকভাবে দক্ষিণ আমেরিকার বন্য ডার্ট ফ্রগে পাওয়া যায়; এটি রাশিয়ায় স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় না।
রুশ বার্তা সংস্থা তাসের তথ্য অনুযায়ী, মস্কো এই অভিযোগকে ‘ইনফরমেশন ক্যামপেইন’ বা ‘বিশেষ প্রচারণা’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে।
তবে কুপার বলেন, নাভালনির দেহে ‘এপিবাটিডিন’ নামের যে টক্সিন পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা নেই।
এ বিষয়ে কুপার ঘোষণা দেয়ার পর যুক্তরাজ্য, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সম্মেলনে কুপার নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়ার সাথেও সাক্ষাৎ করেন।
কুপার বলেন, ‘রাশিয়া নাভালনিকে হুমকি হিসেবে দেখত। এ ধরনের বিষ ব্যবহার করে রুশ রাষ্ট্র দেখিয়েছে যে রাজনৈতিক বিরোধিতার প্রতি তাদের ভয় কতটা গভীর এবং তারা কত নিকৃষ্ট উপায় অবলম্বন করতে পারে।’
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, রাসায়নিক অস্ত্র সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগে তারা বিষয়টি অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রোহিবিশন অব কেমিক্যাল উইপনসকে অবহিত করেছে।
রাশিয়ার দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নেতা এবং অন্যতম সোচ্চার বিক্ষোভকারী নাভালনি ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৪৭ বছর বয়সে হঠাৎ কারাগারে মারা যান।
২০২০ সালে তাকে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল। চিকিৎসার জন্য তিনি জার্মানিতে যান এবং সুস্থ হয়ে রাশিয়ায় ফেরার পর বিমানবন্দরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সূত্র : বিবিসি



