রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, তাদের বাহিনী দোনেৎস্কে অগ্রসর হয়ে ‘বোগাতির’ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
রোববার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে দেশটির ভোস্টক ব্যাটল গ্রুপের ইউনিটগুলোর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে দোনেৎস্ক অঞ্চলের বোগাতির বসতি এলাকা রাশিয়ান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, এলাকাটি দখলের ঘটনা দক্ষিণ দোনেৎস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য বড় আঘাত।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরো ঘোষণা করেছে যে গত কয়েকদিনে দেশটির সেনাবাহিনী ৪২০ জন ইউক্রেনীয় সেনা, সাতটি সাঁজোয়া যুদ্ধ যান, একটি ইসরাইল-নির্মিত কৌশলগত রাডার এবং আরো বেশ কয়েকটি সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে।
ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন হামলা
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিয়েভকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাশিয়ান প্রতিপক্ষ ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করার ঠিক একদিন আগে এই হামলা হয়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আজই সোমবার ফোনে কথা বলার কথা রয়েছে।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, এই হামলার ফলে একজন নারী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ২৭৩টি বিস্ফোরক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এমন সময় যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে, যখন গত শুক্রবার মস্কো ও কিয়েভের প্রতিনিধিরা যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং সঙ্ঘাতের সমাধান নিয়ে আলোচনা করার জন্য ইস্তাম্বুলে মিলিত হন। ওই বৈঠকে উভয় পক্ষই এক হাজার করে যুদ্ধবন্দী বিনিময়ের বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছে।
২০২২ সালের মার্চ মাসের পর মস্কো এবং কিয়েভের মধ্যে এটিই প্রথম সরাসরি আলোচনা। যদি দুই দেশের মধ্যে বন্দী বিনিময় বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ২০২১ সালের মার্চ মাসে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এটি হবে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবন্দী বিনিময়।
সূত্র : পার্সটুডে



