এক সপ্তাহ পর্যন্ত ইউক্রেনে হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত রাশিয়া

ট্রাম্পের অনুরোধে রাশিয়া এক সপ্তাহের জন্য কিয়েভে হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে, যা আগামী রোববার পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও সম্ভাব্য মানবিক সঙ্কট এড়াতেই এই সাময়িক বিরতি বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ভয়াবহ শৈত্যপ্রবাহের কবলে ইউক্রেন
ভয়াবহ শৈত্যপ্রবাহের কবলে ইউক্রেন |সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক সপ্তাহ হামলা বন্ধ রাখতে রাজি হয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

এই বিরতি আগামী রোববার পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে শুক্রবার জানিয়েছে ক্রেমলিন।

ট্রাম্প জানান, ভয়াবহ শৈত্যপ্রবাহের কারণে তিনি পুতিনকে কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় হামলা বন্ধ রাখতে বলেছিলেন।

অন্যদিকে মস্কো জানায়, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের নেয়া মধ্যস্থতা প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতেই ট্রাম্প এ অনুরোধ করেছেন।

ইউক্রেনের জ্বালানি গ্রিডে রাশিয়ার ক্রমাগত হামলার ফলে বর্তমানে কিয়েভের অনেক এলাকায় হিটিং বা ঘর গরম রাখার ব্যবস্থা নেই। আগামী কয়েক দিনে কিয়েভের তাপমাত্রা মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে একটি বড় ধরনের মানবিক সঙ্কটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকৃতপক্ষে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কিয়েভে হামলা থেকে বিরত থাকার জন্য প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। (শান্তি) আলোচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই তিনি এই অনুরোধ করেন।’

তবে ট্রাম্প ঠিক কবে এই অনুরোধ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়ার কেউই তা স্পষ্ট করেনি।

আগের দিন হোয়াইট হাউসে এক ক্যাবিনেট মিটিংয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তীব্র শীতের কারণে, আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে কিয়েভ ও বিভিন্ন শহরে এক সপ্তাহ গোলাবর্ষণ না করতে অনুরোধ করেছি।’

জেলেনস্কি এর আগে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানান। শুক্রবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাশিয়া যদি আমাদের জ্বালানি অবকাঠামো বা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা না চালায়, তবে আমরাও তাদের স্থাপনায় হামলা করব না।’

শুক্রবার দেয়া এক ভাষণে তিনি আরো বলেন, ‘মার্কিন পক্ষ এক সপ্তাহ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা থেকে বিরত থাকার কথা বলেছে। গত রাত থেকেই সেই ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন আমাদের অংশীদার এবং অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে।’

সূত্র : বাসস