তেহরানকে পরমাণু নীতি পরিবর্তন করতে হবে : জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ওয়াডেফুল জানান, বৈঠকে ইরানের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে এবং আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ বাড়ানোর উপায় খোঁজা হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল |সংগৃহীত

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ দূর করতে তেহরানকে নীতির পরিবর্তন করতে হবে—এমন কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওয়াডেফুল জানান, বৈঠকে ইরানের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে এবং আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ বাড়ানোর উপায় খোঁজা হবে।

তিনি বলেন, “জার্মান সরকার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। আজ এ বিষয়ে একটি যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আমি আশাবাদী।” একই সঙ্গে তিনি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের দমনে ইরানি সরকারের পদক্ষেপকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার হুমকি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওয়াডেফুল এ বিষয়ে জল্পনা করতে রাজি হননি। তবে তিনি তেহরানকে কূটনৈতিক সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

তার ভাষায়, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা সম্ভব। এগুলো মূলত ইউরোপেরই ৩ দেশের প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।”

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা—এই দুই বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো জার্মানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, “আমি আশা করি এখানে একটি ইতিবাচক সমাধান পাওয়া যাবে। কারণ নতুন করে কোনো সংঘাত কেউই চায় না। তবে ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে বুঝতে হবে—আগের মতো আচরণ চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব নয়।”

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দেশটির মুদ্রা রিয়ালের তীব্র অবমূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক সঙ্কট এই আন্দোলনের মূল কারণ। ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের’ সমর্থন দিয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির চেষ্টা করছে। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জবাব হবে “দ্রুত ও সর্বাত্মক”।

পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে। তবে তেহরান বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক এবং জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে সেই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করেন।

এরপর ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি।