রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের কুরিল দ্বীপপুঞ্জে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক সফরের সমালোচনা করায় জাপানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে মস্কো। এসব দ্বীপের মালিকানা নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।
রাশিয়া সোমবার (১৭ আগস্ট) জানায়, পুতিনের সফরের প্রতিবাদে টোকিও মস্কোয় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে জাপানের রাষ্ট্রদূত আকিরা মুতোকেও তলব করা হয়েছে।
বিতর্কিত এই দ্বীপগুলো জাপানে ‘নর্দার্ন টেরিটরিজ’ নামে পরিচিত। ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপগুলো দখল করে নেয়ার পর থেকেই এগুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।
৭৩ বছর বয়সী পুতিন রাশিয়ার নিকটবর্তী সাখালিন দ্বীপ সফরের পর কুরিল দ্বীপপুঞ্জে যান। তার এই সফরের প্রতিবাদে জাপান রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।
এর জবাবে রাশিয়াও জাপানের রাষ্ট্রদূত আকিরা মুতোকেকে তলব করে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সোমবার বলেন, পুতিনের সফরের সমালোচনা করে জাপানি কর্মকর্তারা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সীমা অতিক্রম করেছেন।
সাংবাদিকদের লাভরভ বলেন, ‘আমরা (জাপানের) রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছি।’
তবে তিনি জানান, শুরুতে টোকিও থেকে বলা হয়েছিল, মুতো তাৎক্ষণিকভাবে বৈঠকে উপস্থিত হতে পারবেন না।
লাভরভ বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল, তিনি হয় মস্কোতে নেই, অথবা অসুস্থ। বিষয়টি আসলে কী, তা আমরা পুরোপুরি বুঝতে পারিনি।’
পরে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসকে জানান, লাভরভের বক্তব্যের পর জাপানের রাষ্ট্রদূত ‘হঠাৎ সুস্থ হয়ে ওঠেন’ এবং মঙ্গলবার বৈঠকে উপস্থিত হবেন।
লাভরভ বলেন, জাপানের রাষ্ট্রদূতকে তলবের উদ্দেশ্য হলো জাপানি নেতৃত্বের আচরণ এবং স্বাগতিক দেশে একজন রাষ্ট্রদূতের কিভাবে দায়িত্ব পালন করা উচিত—সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই জাপান ও রাশিয়ার সম্পর্ক আরো খারাপ হয়েছে।
জাপান জি-৭-এর অন্যান্য দেশের সাথে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একইসাথে ইউক্রেনকে অর্থনৈতিক সহায়তা এবং প্রাণঘাতী নয় এমন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামও দিয়েছে।
সূত্র: বাসস



