আইসিসির শুনানিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি হাজির হবেন ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট দুতের্তে

ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে ২৩ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) চার্জ নিশ্চিতকরণ শুনানিতে অংশ নেবেন, যেখানে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ওঠেছে। আদালত দু’বারের মুক্তি আবেদন খারিজ করে তাকে প্রক্রিয়াগত অধিকার প্রয়োগে সক্ষম বলে স্বীকার করেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে
ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে |সংগৃহীত

ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তেকে আগামী মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) শুনানির মুখোমুখি হতে হবে। সোমবার আদালতের বিচারকরা ৮০ বছর বয়সী দুতের্তে শুনানিতে অংশ নিতে অযোগ্য এমন দাবি খারিজ করে এ সিদ্ধান্ত দেন।

আইসিসির বরাতে দ্য হেগ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দুতের্তের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘চার্জ নিশ্চিতকরণ’ শুনানি শুরু হবে। এই শুনানিতে বিচারকরা সিদ্ধান্ত নেবেন, মামলাটি বিচারে নেয়ার মতো যথেষ্ট প্রমাণ প্রসিকিউশনের হাতে রয়েছে কি না।

আদালত এক বিবৃতিতে জানায়, ‘প্রাসঙ্গিক আইনি নীতিমালা, স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের চিকিৎসা মূল্যায়ন এবং মামলার সব প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চেম্বার সন্তুষ্ট হয়েছে যে দুতের্তে তার প্রক্রিয়াগত অধিকার কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে সক্ষম।’

আইসিসি আরো জানায়, ‘অতএব, প্রাক-বিচার কার্যক্রমে অংশ নেয়ার জন্য দুতের্তেকে উপযুক্ত বলে বিবেচনা করা হয়েছে।’

আইসিসির প্রসিকিউটররা দুতের্তের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তার ঘোষিত ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’-এর অংশ হিসেবে অন্তত ৭৬টি হত্যাকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন।

প্রথম অভিযোগটি ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে দাভাও সিটির মেয়র থাকাকালে সংঘটিত ১৯টি হত্যাকাণ্ডে সহ-অপরাধী হিসেবে তার কথিত ভূমিকার সাথে সম্পর্কিত।

দ্বিতীয় অভিযোগটি ২০১৬ ও ২০১৭ সালে, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তথাকথিত ‘হাই ভ্যালু টার্গেট’ হিসেবে চিহ্নিত ১৪ জনকে হত্যার ঘটনা ঘিরে।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ফিলিপাইনের বিভিন্ন এলাকায় নিম্নস্তরের সন্দেহভাজন মাদক ব্যবহারকারী বা কারবারিদের বিরুদ্ধে চালানো ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’-এ ৪৩টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

গত অক্টোবর মাসে আদালত দুতের্তের আগাম মুক্তির আবেদনও খারিজ করে দেয়। আদালতের মতে, মুক্তি পেলে তিনি পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত করার অবস্থানে থাকতে পারেন।

দুতের্তেকে গত ১১ মার্চ ম্যানিলায় গ্রেফতার করা হয়। ওই রাতেই তাকে নেদারল্যান্ডসে পাঠানো হয় এবং এরপর থেকে তিনি দ্য হেগের স্কেভেনিনগেন কারাগারে আইসিসির আটক কেন্দ্রে রয়েছেন।

প্রাথমিক শুনানিতে তিনি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে অংশ নেন। ওই সময় তাকে বিভ্রান্ত ও দুর্বল দেখাচ্ছিল এবং তিনি খুব কমই কথা বলেন।

সূত্র : বাসস