দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ৩ সাংবাদিক নিহত

দক্ষিণ লেবাননে গতকাল শনিবার ইসরাইলি হামলায় তিন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পূর্ববর্তী দফার সঙ্ঘাতের সময়ও বেশ কয়েকজন সাংবাদিক নিহত ও আহত হন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে গতকাল শনিবার ইসরাইলি হামলায় তিন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে হিজবুল্লাহর আল মানার নেটওয়ার্কের একজন সুপরিচিত প্রতিবেদকও রয়েছেন। লেবাননের কর্তৃপক্ষ এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী আল মানারের সাংবাদিক আলী শোয়েবকে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং তার বিরুদ্ধে ‘সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে হিজবুল্লাহ সন্ত্রাসী সংগঠনের ভেতরে কাজ করার’ অভিযোগ এনেছে।

ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের সূচনালগ্নে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যার প্রতিশোধ নিতে তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গত ২ মার্চ ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করলে লেবানন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

ইসরাইল লেবানন জুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা এবং দক্ষিণে স্থল অভিযান চালিয়ে এর জবাব দিচ্ছে। লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সঙ্ঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে এক হাজার ১৮৯ জন নিহত হয়েছেন।

গতকাল শনিবার সকালে লেবাননের একটি সামরিক সূত্র বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানায়, হিজবুল্লাহর আল মানার চ্যানেলের আলী শোয়েব এবং ইরান-সমর্থিত এই আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আল মায়াদিনের ফাতিমা ফতুনি, ফতুনির ভাই ও একজন ক্যামেরাম্যানসহ জেজ্জিনে নিহত হয়েছেন।

আল মায়াদিন ও আল মানার তাদের সাংবাদিকদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

শোয়েব ছিলেন আল মানারের অন্যতম বিশিষ্ট যুদ্ধবিষয়ক সংবাদদাতা, যিনি কয়েক দশক ধরে লেবাননে ইসরাইলি হামলার খবর সংগ্রহ করেছেন।

এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা শোয়েবকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তাদের অভিযোগ, তিনি ‘আল মানার নেটওয়ার্কের সাংবাদিকের ছদ্মবেশে হিজবুল্লাহ সন্ত্রাসী সংগঠনের ভেতরে থেকে কাজ করতেন এবং একই সাথে দক্ষিণ লেবানন ও সীমান্ত বরাবর কর্মরত আইডিএফ সৈন্যদের অবস্থান পদ্ধতিগতভাবে প্রকাশ করার জন্য কাজ করেছেন’।

পরে এটি জানায় যে, বর্তমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ‘আকাশ, সমুদ্র ও স্থলপথে’ ‘৮০০ জনেরও বেশি’ হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করেছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে একে ‘একটি প্রকাশ্য অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন। যা ‘যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রদানকারী সব নিয়ম ও চুক্তির লঙ্ঘন’।

প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বলেছেন, সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করা ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের একটি চরম লঙ্ঘন’। অন্যদিকে তথ্যমন্ত্রী পল মরকোস এই কর্মকাণ্ডকে ‘যুদ্ধাপরাধ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এই মাসের শুরুতে মধ্য বৈরুতে এক হামলায় আল মানারের রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পরিচালক মোহাম্মদ শেরি নিহত হন। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পূর্ববর্তী দফার সঙ্ঘাতের সময়ও বেশ কয়েকজন সাংবাদিক নিহত ও আহত হন।

সেই সঙ্ঘাতে দক্ষিণে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে পাঁচজন সাংবাদিক নিহত হন, যাদের মধ্যে আল মায়াদিন টিভির একজন সংবাদদাতা এবং আল মানারের একজন ক্যামেরাম্যানও ছিলেন।

গত ২০২৩ সালের অক্টোবরে, ইসরাইলি সীমান্তের কাছে সঙ্ঘাতের খবর সংগ্রহ করার সময় রয়টার্সের সাংবাদিক ইসাম আবদুল্লাহ নিহত হন এবং বার্তাসংস্থা এএফপির সাংবাদিক ডিলান কলিন্স ও ক্রিস্টিনা আসিসহ আরো ছয়জন আহত হন।

এএফপির একটি স্বাধীন তদন্তে জানা গেছে যে, ইসরাইলের অভ্যন্তরে জরদেইখ এলাকা থেকে দু’টি ইসরাইলি ১২০ মিমি ট্যাঙ্কের গোলা ছোড়া হয়েছিল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিনের বলেন, ইসরাইল শনিবার দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে নয় প্যারামেডিককে হত্যা করেছে।

সূত্র: বাসস