মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে সাজাভোগের আবেদন প্রত্যাখ্যান

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক বহু বিলিয়ন ডলার কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার দায়ে ২০২২ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক |সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার একটি আদালত দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বাকি সাজা তার বাড়িতে কাটানোর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের মতে, এ বিষয়ে যে রাজকীয় আদেশের কথা বলা হচ্ছে, তা বৈধ নয়।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) কুয়ালালামপুর হাইকোর্ট এ রায় দিয়েছে। হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত নাজিবের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে। তিনি বহু বিলিয়ন ডলারের ১এমডিবি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার দায়ে ২০২২ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন।

৭২ বছর বয়সী নাজিব মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষকে রাজকীয় আদেশ নিশ্চিত করতে এবং কার্যকর করতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, গত বছর মালয়েশিয়ার সাবেক রাজার দেয়া ক্ষমার অংশ হিসেবে একটি রাজকীয় আদেশ জারি হয়েছিল। ওই আদেশ অনুযায়ী তিনি কারাগারের বাইরে, নিজ বাড়িতে থেকে বাকি সাজা ভোগের অধিকার পান।

মালয়েশিয়ায় রাজা মূলত আনুষ্ঠানিক ভূমিকা পালন করেন। তবে তিনি সংবিধানের প্রদত্ত বিবেচনামূলক ক্ষমতার অংশ হিসেবে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষমা করতে পারেন।

বিচারক অ্যালিস লক বলেন, আদেশের অস্তিত্ব নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই, তবে আদেশটি আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এটি সংবিধান অনুসারে দেশের ক্ষমা পর্ষদের পরামর্শক্রমে করা হয়নি। মালয়েশিয়ার শাসকরা তাদের বিবেচনার ভিত্তিতে ক্ষমা জারি করার অনুমতি পেলেও তাদের ক্ষমতা সীমাহীন নয়।

তিনি আরো বলেন, ‘আদালত রায় দিয়েছে, রাজা ক্ষমা পর্ষদের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে গৃহবন্দীর আদেশ মঞ্জুর করতে পারেন না। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমি মনে করি, গৃহবন্দী আদেশ কার্যকর করা সম্ভব নয়। মালয়েশিয়ায় এই ধরনের ব্যবস্থার কোনো আইনি বিধান নেই।’

২০০৯ সালে রাষ্ট্রীয় তহবিল ১এমডিবি থেকে প্রায় ২.২৮ বিলিয়ন রিঙ্গিত (৫৫৪ মিলিয়ন ডলার) হাতিয়ে নেয়ার জন্য নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের চারটি অভিযোগ ও অর্থ পাচারের ২১টি অভিযোগ রয়েছে।

আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথে সম্পর্কিত একটি পৃথক মামলায় নাজিব এই সপ্তাহে আরেকটি রায়ের মুখোমুখি হচ্ছেন। শুক্রবারের ওই রায়কে নাজিবের বিরুদ্ধে প্রধান মামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র : আল জাজিরা