দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনী দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত থাইল্যান্ডে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং একজন সৈন্য নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে কম্বোডিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে থাইল্যান্ডের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ভোরে কম্বোডিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওদার মিনচে প্রদেশে অবস্থিত তা মোয়ান থম মন্দির সংলগ্ন এলাকায় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় দেশই সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছে।
থাই সামরিক কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল সুরসান্ত কংসিরি বলেন, সীমান্তের কমপক্ষে ছয়টি এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ফলে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী দুই দেশের মধ্যকার সীমান্তে সব চেকপয়েন্ট বন্ধ করে দেয়।
থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সোমসাক থেপসুথিন বলেছেন, বৃহস্পতিবারের সহিংসতায় আট বছর বয়সী একটি শিশুসহ ১১ জন থাই বেসামরিক নাগরিক এবং একজন সৈন্য নিহত হয়েছেন।
খবরে বলা হয়েছে, সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সিসাকেট প্রদেশের কান্থারালাক জেলার বান ফু শহরে কম্বোডিয়ান সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণে নিহতদের মধ্যে চারজন বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। সুরিন প্রদেশের কাবচিং-এর জেলা প্রধান সুথিরোট চারোয়েন্থানাসাক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কম্বোডিয়ানদের গুলিবর্ষণে তাদের বাড়িতে আরো দুজন নিহত হয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, জেলা কর্তৃপক্ষ সীমান্তের কাছের ৮৬টি গ্রাম থেকে ৪০ হাজার বেসামরিক নাগরিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। তাদের কংক্রিট, বালির বস্তা ও গাড়ির টায়ার দিয়ে সুরক্ষিত বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
এদিকে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তা বলেন, ‘কম্বোডিয়া সর্বদা শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানের পক্ষে ছিল। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সশস্ত্র আক্রমণের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করে জবাব দেয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি সহিংসতার প্রতিক্রিয়ায় জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি এই অঞ্চলের শান্তির জন্য ভয়াবহ হুমকি।
সূত্র : আল জাজিরা



