জ্বালানি-খনিজ নিয়ে জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার বৈঠক

জাপান ও অস্ট্রেলিয়া বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের সঙ্কট মোকাবেলায় দু’দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বৈঠক করেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী |সংগৃহীত

জাপান ও অস্ট্রেলিয়া বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের সঙ্কট মোকাবেলায় দু’দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বৈঠক করেছে। সোমবার (৪ মে) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সাথে বৈঠক করেন।

বৈঠকে উভয়ে জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

এদিকে বৈঠকের আগে ক্যানবেরায় অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি আমাদের দুই দেশের মধ্যে যৌথ জ্বালানি নিরাপত্তার মূল ভিত্তি।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের রফতানি অংশীদাররা সবসময় নির্ভরযোগ্য সরবরাহ চায়।’

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান সেখানে জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

জাপান সরকার জানিয়েছে, তারা গুরুত্বপূর্ণ খনিজের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতেও আগ্রহী। এসব খনিজ সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি ও বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে অপরিহার্য।

পেনি ওং বলেন, ‘বিশ্বে যখন অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে, তখন আমাদের আরো সক্ষম ও স্থিতিশীল হওয়া প্রয়োজন। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি।’

এদিকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও জাপান ও অস্ট্রেলিয়া সহযোগিতা জোরদার করছে। গত বছর প্রায় ১০ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের একটি চুক্তির মাধ্যমে জাপান অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীকে ‘মোগামি শ্রেণির’ বহুমুখী যুদ্ধজাহাজ সরবরাহে সম্মত হয়।

সপ্তাহান্তে ভিয়েতনামে দেয়া এক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বক্তব্যে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ‘অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ গড়ে তুলতে আরো সক্রিয় ভূমিকা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ কৌশলটি চীনকে ক্ষুব্ধ করেছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে জাপান তার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চায়।

প্রায় এক দশক আগে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে এই ‘অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ ধারণাটি প্রথম তুলে ধরেন। এরপর থেকে এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব কমাতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও অংশীদার দেশগুলো এই কৌশলকে সমর্থন ও গ্রহণ করেছে।

সূত্র: বাসস