কাজেরপ্রয়োজনে প্রতিদিন কত মানুষই তো আমাদের ঘরের দরজায় আসেন। কিন্তু নিজের পেশাগত কর্তব্যের গণ্ডি পেরিয়ে এক ডেলিভারি বয় যা করলেন, তা দেখে আজ প্রশংসায় পঞ্চমুখ গোটা নেটদুনিয়া।
ভারতে অসাবধানতাবশত এক গ্রাহকের বাড়ির সদর দরজা খোলা রেখে চলে যাওয়ার পর, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে সেই বাড়ি এবং তার ভেতরে থাকা পোষ্য বিড়ালটিকে পাহারা দেন ওই যুবক।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সকলেই বলছেন, ‘এই ঘটনা মানুষের ওপর বিশ্বাস ফিরিয়ে আনে।’
জানা গেছে, বাড়ির মালিক দিব্যা উন্নি জরুরি প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যান। সেই সময় তিনি অসাবধানতাবশত তার ফ্ল্যাটের মূল দরজাটি লক না করে সম্পূর্ণ খোলা রেখেই চলে যান। কিছুক্ষণ পর ‘দিল্লিভেরি’ কুরিয়ার সংস্থার পক্ষ থেকে আমজাদ আনসারি নামের এক ডেলিভারি কর্মী সেখানে পার্সেল দিতে আসেন। দরজায় কড়া নাড়তে গিয়ে তিনি দেখেন পুরো বাড়ি শুনশান এবং সদর দরজা খোলা।
সাধারণত এই ধরনের পরিস্থিতিতে কুরিয়ার বয়রা পার্সেলটি দরজার বাইরে রেখে বা কাস্টমারকে ফোন করে চলে যান। কিন্তু আমজাদ তা করেননি। একটি ফাঁকা ও খোলা বাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি প্রথমে পার্সেলটি ঘরের ভেতরের একটি টেবিলের ওপর সুরক্ষিতভাবে রাখেন। এরপর তিনি বুঝতে পারেন, এই অবস্থায় বাড়িটি ফেলে গেলে যেকোনো মুহূর্তে চুরি হতে পারে। তার ওপর ঘরের ভেতর একটি পোষ্য বিড়াল ঘুরে বেড়াচ্ছিল, দরজা খোলা পেয়ে যা যেকোনো সময় বাইরে পালিয়ে যেতে পারত।
এই ঝুঁকি টের পেয়ে আমজাদ নিজেই দরজার সামনে পাহারাদারের মতো দাঁড়িয়ে পড়েন। এরপরই আমজাদ বাড়ির মালিককে ফোনে বিষয়টি জানান এবং তিনি যতক্ষণে না বাড়ি ফিরছেন, ততক্ষণে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পুরো বাড়ি পাহারা দেন।
ওই নারী যখন তড়িঘড়ি বাড়ি ফিরে আসেন, তখন আমজাদের এই সততা এবং দায়িত্বজ্ঞান দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। দিব্যা উন্নি ইনস্টাগ্রামে লেখেন, ‘আমজাদ আনসারি শুধু আমার দরজা খোলা থাকার কথাই আমাকে জানায়নি, বরং ঠায় দাঁড়িয়ে বাড়িটা পাহারা দিয়েছে, যাতে আমার বিড়ালটি পালিয়ে না যায়। সততা ও নিষ্ঠার এমন দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী মানুষ আমাদের আরো বেশি প্রয়োজন... আজ আমি সত্যিই ভাগ্যবান যে ও আমার ডেলিভারি পার্টনার হিসেবে এসেছিল। ওর মতো মানুষ আরো আসুক, তবেই এই পৃথিবীটা আরো সুন্দর হবে।’
ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আমজাদের সততা ও মানবিকতার প্রশংসা করছেন হাজার হাজার নেটিজেন। এক নেটিজেন লিখেছেন, ‘আমি নিজেও একজন বিড়ালের “মা”, তাই বুঝতে পারছি দরজা খোলা দেখে আপনার মনের ভেতর ঠিক কতটা ভয় কাজ করছিল। আমজাদকে স্যালুট।’
অন্য একজন লিখেছেন, ‘আমাদের সমাজে আমজাদের মতো মানুষের যেমন প্রয়োজন, ঠিক তেমনই আপনার মতো মানুষেরও দরকার, যারা এই ভালো কাজগুলোকে সমাজের সামনে তুলে ধরেন।’
তৃতীয় এক ব্যক্তির মন্তব্য, ‘অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী এবং সুন্দর একটি ঘটনা। আমাদের সমাজে এরকম মানুষ বেশি বেশি করে দরকার।’ সূত্র : পুবের কলম



