পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে ভারতজুড়ে বিতর্কের মাঝেই বড় পদক্ষেপ নিলো দেশটি। নিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে তৈরি হওয়া বিক্ষোভের পর এবার আইন আরো কঠোর করেছে ভারত সরকার।
বুধবার (২৯ জুলাই) ভারতের লোকসভায় ‘পাবলিক এগজামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ (Public Examinations Amendment Bill 2026) পাস হয়েছে।
এই সংশোধনী বিলে প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি এবং পরীক্ষায় দুর্নীতির সাথে যুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগেই জানিয়েছিলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সেই লক্ষ্যেই ২০২৪ সালে পাশ হওয়া আইনে একাধিক পরিবর্তন এনে আরো কঠোর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং লোকসভায় বিলটি পেশ করেন। দু’দিন ধরে আলোচনার পর বুধবার সেটি পাস হয়। রাজ্যসভায় অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর পেলেই বিলটি চূড়ান্ত আইনে পরিণত হবে।
রাজ্যগুলোকে বাড়তি ক্ষমতা
নতুন সংশোধনী বিলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় কারচুপির মতো মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো যে কোনো দায়রা আদালতকে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। এই আদালতে প্রতিদিন শুনানি করার ব্যবস্থা থাকবে। চার্জশিট জমা দেয়ার তিন মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন
তদন্তের ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে নির্দিষ্ট সময়সীমা। কেন্দ্র সরকার প্রয়োজন মনে করলে বিশেষ টাস্ক ফোর্স তৈরি করতে পারবে। পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে তদন্ত শুরুর দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেয়া যেতে পারে।
দোষীদের কঠোর শাস্তি
পরীক্ষায় অনিয়মের সাথে যুক্ত অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। আইন লঙ্ঘন করলে অপরাধীদের সর্বনিম্ন পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এর পাশাপাশি ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।
মোটা অঙ্কের জরিমানা
যদি কোনো সংগঠিত চক্র বা দল পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকে, তাহলে শাস্তি আরো কঠোর হবে। সেক্ষেত্রে ন্যূনতম সাত বছরের জেল এবং সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি
এছাড়া মামলার দ্রুত পরিচালনার জন্য বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগ করা যাবে। কোনো রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চে আবেদন করার সুযোগ থাকবে। সেই আবেদনও তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
ইউপিএসসি, এসএসসি, রেল, ব্যাংকিং পরীক্ষা এবং এনটিএ পরিচালিত বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
সরকারের দাবি, নতুন আইন কার্যকর হলে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষার অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে।
সূত্র: দ্য ওয়াল



