উত্তরাখন্ডে বাড়িতে আরবি শিক্ষা দেয়ায় শিক্ষককে হেনস্থা

এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন লোক বাড়ির বাইরে জড়ো হয়ে সেখানে একটি ‘অবৈধ মাদরাসা’ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে ওই বাড়িটি পরিদর্শনের আহ্বান জানান।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে এক শিশুকে আরবি শিক্ষা দেয়া হচ্ছিল। তাতে আপত্তি জানিয়ে মুসলিম শিক্ষককে হেনস্থার অভিযোগ উঠল একটি সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরাখন্ডের চামোলি জেলার জোশীমঠে।

শনিবার (৪ জুলাই) দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে স্থানীয়ভাবে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন লোক বাড়ির বাইরে জড়ো হয়ে সেখানে একটি ‘অবৈধ মাদরাসা’ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে ওই বাড়িটি পরিদর্শনের আহ্বান জানান।

অভিযোগকারীরা শিক্ষকের কাছে আরবি শিক্ষা দেয়ার বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। কোনো নিয়ম লঙ্ঘন হয়ে থাকলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। তবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সেখানে কোনো অবৈধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকের মতে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রেজিস্টার করা আছে কি না, কিংবা আইন ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব প্রশাসনের। ব্যক্তিগত উদ্যোগে এভাবে তদন্ত বা জিজ্ঞাসাবাদ করা যায় না। আলোচনায় অংশ নেয়া অনেকেই ব্যক্তিগত বাসভবনে ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান বা গ্রহণকে ব্যক্তিস্বাধীনতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের অধিকার, ব্যক্তিগত বাড়িতে শিক্ষাদান এবং আইন প্রয়োগের দায়িত্ব কার হাতে থাকবে তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একাংশের মত, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দেয়া উচিত ছিল, অন্যদিকে কেউ কেউ অভিযোগের যথাযথ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন। যদিও এখন পর্যন্ত উত্তরাখন্ড প্রশাসন বা পুলিশ এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।