ভারতের গুজরাটের কচ্ছ জেলায় প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে তিনটি মসজিদ, একাধিক মাজারসহ প্রায় ৩০টি স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এর জেরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসলিম সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই হঠাৎ এ অভিযান চালানো হয়।
ঘটনার পর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে। প্রতিনিধি দলের নেতা মাওলানা হাকিমুদ্দিন কাসেমীর দাবি, প্রশাসনের কাছে বারবার কারণ জানতে চাওয়া হলেও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, মসজিদ কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয় এবং প্রতিবাদকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়।
সংগঠনটির তথ্যমতে, ভেঙে ফেলা স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা, ১৭টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং দুটি আবাসিক বাড়ি।
তাদের আরো দাবি, উচ্ছেদের প্রতিবাদ করায় অন্তত ২৫ জন যুবককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জমিয়তের দাবি, কচ্ছের জুনা কান্ডলা মসজিদটি ১৯৬৫ সাল থেকেই ওয়াক্ত রেকর্ডে নিবন্ধিত ছিল। সংগঠনটির বক্তব্য, ওয়াক্তভুক্ত কোনো ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে আইন, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং সাংবিধানিক বিধান মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
অন্যদিকে, গুজরাটের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সংঘভির নির্দেশে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, ভেঙে ফেলা স্থাপনাগুলো সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ছিল। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন- মুসলমানদের উচ্ছেদ করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।


