ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্কারোপে ভারতের কোন কোন সেক্টর সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে

ভারত থেকে আমেরিকায় ওষুধ রফতানিতে কোনো শুল্ক ধআর্ধ করা হয়নি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মোদি-ট্রাম্প
মোদি-ট্রাম্প |সংগৃহীত

বুধবার থেকে ভারত থেকে রফতানি করা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে চলেছে আমেরিকা। এতদিন এই শুল্কের হার ছিল ২৫ শতাংশ। তবে রাশিয়ার তেল কেনার ‘শাস্তি’ হিসেবে ভারতের ওপর আরো ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। এই আবহে ভারতের বেশ কয়েকটি শিল্পে বেশ প্রভাব পড়তে চলেছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন শুল্কারোপের জেরে পোশাক, বস্ত্র, রত্ন ও গহনা, চিংড়ি, কার্পেট এবং আসবাবপত্র ক্ষেত্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ট্রেড থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই) অনুমান করেছে, ২০২৫-২৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রফতানি প্রায় ৪৩ শতাংশ কমে ৮৭ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪৯.৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে।

রাশিয়া থেকে ভারত তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধ জারি রাখার রসদ জোগাচ্ছে। এই অভিযোগে ভারতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেছে আমেরিকা। তবে এত কিছুর মাঝেও আমেরিকার প্রয়োজনের ওষুধ এবং ফোনে কোনো শুল্ক চাপানো হয়নি। এমনকি ভারতের থেকে পেট্রোপণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক মাত্র ৬.৯ শতাংশ। ভারত থেকে আমেরিকায় রফতানির প্রায় ৩০ শতাংশ শুল্কমুক্ত থাকবে।

ভারত থেকে আমেরিকায় চিংড়ি মাছের রফতানির ওপর সব মিলিয়ে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসবে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত থেকে ২ বিলিয়ন ডলারের চিংড়ি আমেরিকায় রফতানি করা হয়েছিল। এদিকে, পেট্রোপণ্যের ওপর শুল্ক হবে ৬.৯ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৪.১ বিলিয়ন ডলারের পেট্রোপণ্য আমেরিকায় রফতানি করেছিল ভারত। অর্গ্যানিক কেমিক্যালসের ওপর ৫৪ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ২.৭ বিলিয়ন ডলারের অর্গ্যানিক কেমিক্যাল আমেরিকায় রফতানি করেছিল ভারত।

এদিকে, ভারত থেকে আমেরিকায় ওষুধ রফতানিতে কোনো শুল্ক ধআর্ধ করা হয়নি। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৯.৮ বিলিয়ন ডলারের ওষুধ আমেরিকায় বিক্রি করেছিল ভারত। এদিকে কার্পেটে শুল্ক ৫২.৯ শতাংশ। আগের বছর ১.২ বিলিয়ন ডলারের কার্পেট আমেরিকায় পাঠায় ভারত। পোশাকের ওপর ৬০.৩ থেকে ৬৩.৯ শতাংশশ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। গতবছর সব মিলিয়ে ৫.৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমেরিকায় রফতানি করেছিল ভারত।

টেক্সটাইলের ওপর ৫৯ শতাংশ শুল্ক, গতবছর আমেরিকায় ৩ বিলিয়ন ডলারের রফতানি করে ভারত। হীরে ও সোনার ওপর ৫২.১ শতাংশ শুল্ক, গতবছর আমেরিকায় ১০ বিলিয়ন ডলারের রফতানি করেছিল ভারত। স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম এবং তামার ওপর ৫১.৭ শতাংশ শুল্ক, গতবছর আমেরিকায় ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের রফতানি করেছিল ভারত। মেশিনারির ওপর শুল্ক ৫১.৩ শতাংশ, গতবছর আমেরিকায় ৬.৭ বিলিয়ন ডলারের রফতানি করেছিল ভারত।

ভারতে তৈরি স্মার্টফোনের ওপর আমেরিকার আমদানি শুল্কের হার শূন্য। বর্তমানে ভারতে তৈরি আইফোনই সবথেকে বেশি বিক্রি হচ্ছে আমেরিকায়। গতবছর ১০.৬ বিলিয়ন ডলারের স্মার্টফোন আমেরিকায় গিয়েছিল ভারত থেকে। এদিকে গাড়ি এবং গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে আমেরিকা। গতবছর ২.৬ বিলিয়ন ডলারের গাড়ি বা যন্ত্রাংশ ভারত থেকে গেছিল আমেরিকায়। এদিকে আসবাব এবং বেডিংয়ের ওপর শুল্ক ৫২.৩ শতাংশ, গতবছরের রফতানির পরিমাণ ছিল ১.১ বিলিয়ন ডলার।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস