মিয়ানমারে ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিতর্কিত এই সাধারণ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটে এগিয়ে রয়েছে জান্তা-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ফলাফলের মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে।
অভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ দমনের পর দেশব্যাপী বিদ্রোহের সূত্রপাতের হয়। এরপর ক্ষমতাসীন জান্তা দাবি করে, তিন ধাপের ভোট দরিদ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনবে।
ইউনিয়ন নির্বাচন কমিশন (ইউইসি) ৫৬টি আসনের ফলাফল প্রকাশ করেছে, যা ২০২০ সালের পর মিয়ানমারের প্রথম নির্বাচন ছিল। প্রথম ধাপের নির্বাচনের এ আংশিক ফলাফলে দেখা গেছে, সেনা-সমর্থিত দলটি প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাপক ব্যবধানে জয়লাভ করেছে, যদিও ভোটারদের উপস্থিতি কম ছিল।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলদের নেতৃত্বে ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) পাইথু হ্লুটাও বা নিম্নকক্ষের ৪০টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতে জয়লাভ করেছে।
এছাড়া হোয়াইট টাইগার পার্টি নামে পরিচিত দ্য শান ন্যাশনালিটিস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও মন ইউনিটি পার্টি (এমইউপি) একটি করে আসন পেয়েছে।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। যদিও জান্তা-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় নির্বাচন নিয়ে জাতিসঙ্ঘ, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠী সমালোচনা করেছে। এছাড়া নির্বাচনী প্যানেল প্রথম ধাপে মোট কতটি আসনে ভোট হচ্ছে তা প্রকাশ করেনি এবং নির্বাচনী এলাকা অনুসারে আংশিক ফলাফল প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে গত বুধবার জান্তা জানিয়েছিল, প্রথম ধাপে ৫২ শতাংশ ভোটার অর্থাৎ যোগ্য ভোটারদের অর্ধেকেরও বেশি ভোট দিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমসের তথ্য অনুসারে, এ হার ২০২০ ও ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনের প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির তুলনায় কম।
আগামী ১১ জানুয়ারি ও ২৫ জানুয়ারি আরো দুই ধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। যা মিয়ানমারের ৩৩০টি শহরের মধ্যে ২৬৫টিতে অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে কয়েকটিতে জান্তাদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেই।
সূত্র : রয়টার্স



