ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গত কয়েক দশকের মধ্যে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে গুরুতর সামরিক সংঘাতের ১৫ মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু এই সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের তৈরি বয়ান প্রতিষ্ঠার যে চেষ্টা নয়াদিল্লি চালিয়ে যাচ্ছে, তা বিশ্বজুড়ে প্রায় অনেকটাই প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়েছে।
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য ডন, বুধবার (১৯ আগস্ট) জানায়, সংঘাতের চার দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিজেদের মতো করে তুলে ধরতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে ভারত। তবে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর স্বাধীন মূল্যায়ন এবং উন্মুক্ত অনুসন্ধানের তথ্য ভারতের সেই দাবিকে অনেকটাই ভুল প্রমাণ করেছে।
স্টিমসন সেন্টারের ক্রিস্টোফার ক্ল্যারি তাঁর এক বিশদ গবেষণায় এই যুদ্ধকে দুই পারমাণবিক দেশের মধ্যকার সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, মে মাসের ৭ তারিখে পাকিস্তান আকাশপথে তাৎক্ষণিক সাফল্য অর্জন করেছিল। এছাড়া ব্রিটিশ আমেরিকান সিকিউরিটি ইনফরমেশন কাউন্সিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের সরাসরি সামরিক যোগাযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল কূটনৈতিক হস্তক্ষেপে এই সংঘাতের অবসান ঘটে। তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনও এই যুদ্ধ বন্ধে প্রধান ভূমিকা রাখার কথা নিশ্চিত করে, যা বিষয়টিকে দিল্লির দাবি অনুযায়ী স্রেফ ‘দ্বিপক্ষীয়’ সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ রাখে না। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মে মাসের ১০ তারিখে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে জানান, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতাতেই এ চুক্তি সম্ভব হয়েছে।
এদিকে ভারতের এই পদক্ষেপকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীও। এক বিবৃতিতে ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানায়, কোনো ধরনের 'সিনেম্যাটিক জালিয়াতি' করে ভারত নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে পারবে না। ভারতের বানানো তথ্যচিত্রকে একটি 'প্রচারণামূলক ভিডিও' হিসেবে আখ্যা দিয়ে আইএসপিআর বলে, নিজেদের সামরিক ভুলকে সফল অভিযান হিসেবে দেখানোর এক ব্যর্থ চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। তারা আরও দাবি করে, 'মারকা-ই-হক' সংঘাতের সময় পাকিস্তান ভারতের ৮টি সামরিক বিমান ভূপাতিত করেছিল এবং প্রতিপক্ষের আগ্রাসন পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিয়েছিল। পাকিস্তান আরও সতর্ক করে দিয়ে জানায়, ভবিষ্যতে যেকোনো সামরিক হঠকারিতার উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।



