আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের আফগানিস্তানের বিশেষ প্রতিনিধি জামির কাবুলভ রুশ বার্তাসংস্থা আরআইএ নভোস্তিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি ঝিরনভ আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সাথে দেখা করেছেন এবং সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো সম্প্রসারিত হবে।’
আমির খান মুত্তাকি আশা প্রকাশ করেছেন, এর ফলে আফগানিস্তান ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আরো জোরদার হবে।
এদিকে দিমিত্রি ঝিরনভ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম রাশিয়া-১-কে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের পরামর্শে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি আফগানিস্তানের সাথে একটি পূর্ণাঙ্গ অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় রাশিয়ার আন্তরিক ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে।’ তিনি এটিকে ‘দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার দিকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।
রাশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে তালেবান প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে কাবুলে অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান প্রশাসনকে জাতিসঙ্ঘের কোনো সদস্য রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়নি। চীনসহ মাত্র কয়েকটি দেশে তালেবান-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের একজন রাষ্ট্রদূত রয়েছে। বেইজিং ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কাবুলে তাদের দূত পাঠিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তানের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত গুল হাসান হাসানের পরিচয়পত্রের কপি পেয়েছে। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে আফগানিস্তান সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির এই পদক্ষেপ আমাদের দেশগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎপাদনশীল দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিকাশে গতি আনবে।’
সূত্র : আনাদোলু অ্যাজেন্সি



