নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতা নির্ধারণ করতে দেশটির সেনাবাহিনীর সাথে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) জেন-জি প্রজন্মের বিক্ষোভকারীরা আবারো আলোচনায় বসেছে।
ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়ার পর এই আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র। বিক্ষোভকে ঘিরে সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে প্রায় ৩০ জন নিহত হয়েছেন।
নেপালের ইতিহাসে গত কয়েক দশকের মধ্যে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ বিক্ষোভের পর রাজধানী কাঠমান্ডুর রাস্তায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছে। ফেসবুক, ইউটিউবসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠে নেপাল। এ সময় ১৯ জন নিহত হওয়ার পর সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানের তালিকায় এগিয়ে আছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। বিক্ষোভে নেতৃত্বদানকারী অনেকেই তার নাম প্রস্তাব করেছেন। কার্কি ২০১৬ সালে নেপালের প্রথম নারী হিসেবে এই পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন।
৭৩ বছর বয়সী সুশীলা কার্কি তার সম্মতি দিয়েছেন। তবে তাকে নিয়োগের জন্য একটি সাংবিধানিক পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন বিষয়টির সাথে পরিচিত একটি সূত্র। তবে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তার প্রার্থিতা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত বৃহস্পতিবার সকালে রয়টার্সকে বলেন, ‘প্রাথমিক আলোচনা চলছে এবং আজও তা চলবে। আমরা ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।’
এদিকে কাঠমান্ডু ও আশপাশের এলাকায় দোকানপাট, স্কুল ও কলেজ বন্ধ রয়েছে। তবে কিছু প্রয়োজনীয় পরিষেবা পুনরায় চালু হয়েছে। সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, কাঠমান্ডু ও আশপাশের এলাকায় দিনের বেশিভাগ সময় নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে, অন্যদিকে বিমানবন্দরের একজন মুখপাত্র জানান,, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হয়েছে।
অন্যদিকে নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন এক হাজার ৩৩ জন।
সূত্র : রয়টার্স



