ভারতের আসাম রাজ্যের নলবাড়ি শহরে বড়দিনের আগের দিন একটি ক্যাথোলিক স্কুলে হামলা চালিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একদল কর্মী। একই দল শহরের একটি দোকানে বিক্রি হওয়া বড়দিনের অলঙ্কারও ধ্বংস করেছে।
গত সপ্তাহে মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়সহ ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে বড়দিন উপলক্ষে করা সাজসজ্জা ভাঙচুর ও হামলার খবর পাওয়া গেছে। নলবাড়ির ঘটনাটি এর মধ্যে সর্বশেষ।
নলবাড়ির সিনিয়র পুলিশ সুপার বিবেকানন্দ দাস বলেছেন, এই ঘটনার সাথে সম্পর্কিত পানিগাঁওয়ের সেন্ট মেরি’স ইংলিশ স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা একটি অভিযোগ পেয়েছেন। ওই একই দল নলবাড়ি শহরের একটি বাজারের দোকানেও যায়, যেখানে বড়দিনের সাজসজ্জা বিক্রি হচ্ছিল। তারা সেগুলোও পুড়িয়ে দেয়। ধারণা করা হচ্ছে ওই দলে প্রায় নয়জন ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলাকারী ব্যক্তিরা বজরং দলের স্লোগানের পাশাপাশি ‘জয় শ্রী রাম’ এবং ‘জয় হিন্দু রাষ্ট্র’ স্লোগান দিচ্ছে।
একই দিনে, ছত্তিশগড়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে সজ্জিত একদল জনতা রাজ্যের রাজধানী রায়পুরের ম্যাগনেটো মলে প্রবেশ করে এবং বড়দিনের সাজসজ্জা ও স্থাপনা ভাঙচুর করে। ধর্মান্তরের অভিযোগের প্রতিবাদে বুধবার সর্ব হিন্দু সমাজ এক দিনব্যাপী ‘ছত্তিশগড় বন্ধের’ ডাক দেয়। ওই শপিংমলের একজন কর্মচারী জানান, ৮০ থেকে ৯০ জন লোক ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং তাণ্ডব চালায়।
এদিকে মধ্যপ্রদেশে বিজেপির জবলপুর জেলার সহ-সভাপতি অঞ্জু ভার্গবের বিরুদ্ধে শনিবার কাটাঙ্গা এলাকার গির্জা প্রাঙ্গণে এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। অঞ্জু ভার্গবের দাবি, সেখানে শিশুদের খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে।
রোববার সকালে জবলপুর আরেকটি ঘটনা ঘটে, যেখানে মাধোতালের একটি গির্জার প্রার্থনা সভায় এক ডানপন্থী সংগঠনের সদস্যরা বাধা দেয়। হিন্দু সেবা পরিষদের সদস্যরা দাবি করেন, তারা একটি বিশাল সমাবেশের তথ্য পেয়েছেন, যার মধ্যে অন্যান্য জেলা থেকে আসা অংশগ্রহণকারীরাও ছিলেন। তারা দাবি করেন, সহিংসতা শুরু হওয়ার সময় তারা সম্ভাব্য ধর্মীয় রূপান্তর কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন।
কিন্তু অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, প্রার্থনার সময় ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি জোর করে গির্জায় প্রবেশ করে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেয় এবং সভার মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পুলিশ জানায়, গোলমাল সৃষ্টির অভিযোগে বেশ কয়েকজন যুবককে আটক করা হয়েছে এবং উভয়পক্ষের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা কাজ করছেন।
রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগর জেলার শিক্ষা বিভাগ স্কুলগুলোকে বড়দিন উপলক্ষে শিশুদের সান্তা ক্লজের মতো সাজার জন্য ‘জোর’ করতে নিষেধ করেছে। ২২ ডিসেম্বরের এক আদেশে বলা হয়, ‘ভারত তিব্বত সহায়তা মঞ্চ একটি চিঠি জমা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে গত কয়েক বছর ধরে স্কুলগুলোতে বড়দিনে শিশুদের সান্তা ক্লজের মতো সাজতে বাধ্য করা হচ্ছে। যেখানে শ্রী গঙ্গানগর জেলা একটি সনাতন হিন্দু ও শিখ অধ্যুষিত এলাকা।’
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, দিল্লির লাজপত নগরে বজরং দলের সদস্যরা সান্তা ক্লজের টুপি পরা একদল নারীকে হেনস্থা করছে। তারা ওই নারীদের বিরুদ্ধে ধর্মান্তরিত হওয়ার অভিযোগ তোলে এবং তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করে।
সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস



