আমাদের দেশে মসজিদগুলোর অজুখানায় ব্যবহৃত পানি সাধারণত নালায় কিংবা ড্রেনে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে, এই পানিও যে কাজে লাগানো যায়, তা দেখা গেল পাকিস্তানের একটি মসজিদে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্টের একটি প্রতিবেদনে ওই মসজিদটির সন্ধান জানানো হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে, ওই মসজিদের অজুখানায় ব্যবহৃত পানি দিয়ে পাশের কৃষিজমি ও ফুলবাগানে সেচের কাজ করা হয়।
আলোচিত ওই মসজিদটি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের এফ-এইট সেক্টরে অবস্থিত। পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় পানির তীব্র সঙ্কট। সেই সঙ্কট মোকাবেলা করতেই মসজিদটি এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
মসজিদটির তত্ত্বাবধায়ক মুরাদ সাজিদ ইন্ডিপেন্ডেন্ট উর্দুকে জানান, বিদ্যুৎচালিত মোটরের মাধ্যমে ফুলবাগানে সেচ দিতে গিয়ে বিল বেড়ে যায়। পরে তাদের মাথায় এই বিকল্প চিন্তা আসে।
তিনি বলেন, ‘অজুখানার পানি সংরক্ষণের জন্য আমরা একটি স্টোরেজ ট্যাংক স্থাপন করেছি এবং মসজিদের চারপাশে পাইপলাইন বসিয়ে দিয়েছি, যাতে অজুর পানি যথাসময়ে আশপাশের ফুল, ফল ও সবজির গাছগুলোতে পৌঁছে দেয়া যায়।’
মুরাদ সাজিদ জানান, তাদের মসজিদের বাগানে বেগুন, ঢেঁড়স, ঝিঙে, শসা, কুমড়ো, পালং শাক, মরিচসহ নানান সবজি চাষ করা হয়।
তিনি বলেন, আমাদের এই উদ্যোগের কারণে এখন বিদ্যুত বিলও কম আসে এবং পানির অপচয়ও রোধ হয়েছে।
এই মসজিদ প্রাঙ্গণে একটি নার্সারিও গড়ে তোলা হয়েছে। পরিবেশ উন্নত করতে ও ছায়াদার বৃক্ষ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সেখানে উৎপাদিত চারা সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে বিতরণ করা হয় এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে মসজিদ কর্তৃপক্ষ ওই নার্সারির চারা নিজেরাই লাগিয়ে থাকে বলেও নিশ্চিত করেন মুরাদ সাজিদ। তিনি বলেন, এই নার্সারিতেও অজুখানার পানি ব্যবহার করা হয়।
আর অজুর পানি যেহেতু রাসায়নিক বা ডিটারজেন্টমুক্ত, তাই এটি কৃষিকাজে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য। মসজিদটির এই উদ্যোগ শুধুমাত্র পানি সংরক্ষণেই সহায়ক হয়নি; বরং পরিবেশ সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
-ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন



