ভারতের পর্যটনরাজ্য গোয়ার একটি জনপ্রিয় নাইটক্লাবে ভয়াবহ আগুনে পর্যটকসহ ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো অন্তত ৫০ জন।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পরে উত্তর গোয়ার আরপোরা শহরের বাগা বিচে ‘ব্রিচ বাই রোমিও লেন’ নামের নাইটক্লাবে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতদের বেশিভাগই উত্তর গোয়ার আরপোরার ক্লাবের কর্মী বলে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতদের মধ্যে পর্যটকরাও রয়েছেন।
পুলিশ ধারণা করছে, স্থানীয় সময় শনিবার মধ্যরাতে ক্লাবের রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
গোয়ার মহাপরিচালক অলোক কুমার বলেছেন, ‘আগুন মূলত নিচতলার রান্নাঘরের আশপাশে লেগেছিল। আগুনের সূত্রপাত মধ্যরাতে। এখন এটি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।’
অলোক কুমার জানান, রান্নাঘরের আশপাশে বেশিভাগ লাশ পাওয়া গেছে, যা থেকে বোঝা যায় যে হতাহতরা ক্লাবের কর্মচারী ছিলেন।
গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত সাংবাদিকদের জানান, তিনজন পুড়ে মারা গেছেন, আর বাকিদের শ্বাসরোধে মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরো জানান, তিন থেকে চারজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। তবে তাদের বয়স বা জাতীয়তা সম্পর্কে কিছু জানাননি।
কাছাকাছি একটি ভেন্যুতে কর্মরত এক শেফ বলেছেন, তিনি বার্চ ক্লাবের কিছু কর্মীকে চেনেন।
তিনি বলেন, ‘সারা দেশ এবং নেপাল থেকেও মানুষ গোয়ার বিভিন্ন ক্লাবে কাজ করে। ক্লাবে আমার পরিচিত কিছু লোকের জন্য আমি সত্যিই চিন্তিত। তাদের ফোন বন্ধ।’
রোববার ভোর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ণয়ের জন্য অগ্নিদগ্ধ ধ্বংসাবশেষের ভেতর উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি চালাচ্ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী জানান, তারা এখনো হতাহতদের শনাক্ত করছেন এবং তারপর তাদের পরিবারকে অবহিত করবেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে গোয়ার আগুনকে ‘গভীর দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
গোয়া আরব সাগরের তীরে অবস্থিত একটি সাবেক পর্তুগিজ উপনিবেশ। এর নাইটলাইফ, বালুকাময় সৈকত এবং রিসোর্টগুলো প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটককে আকর্ষণ করে।
সরকারি তথ্য অনুসারে, বছরের প্রথমার্ধে প্রায় ৫৫ লাখ পর্যটক গোয়া ভ্রমণ করেছেন, যার মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজার ০০০ জন বিদেশী।
সূত্র : বিবিসি



