ভারতের পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক আগামীকাল বুধবার থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর মধ্যেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার (২৫ আগস্ট) জোর দিয়ে বলেছেন, তার সরকার কৃষক ও ক্ষুদ্র শিল্পের স্বার্থের সাথে কোনো আপস করবে না। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘আমাদের ওপর চাপ বাড়তে পারে, তবে আমরা তা সহ্য করে নেব।’
বাণিজ্য চুক্তির অচলাবস্থার মধ্যে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে উন্নীত করেছেন। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কও রয়েছে।
এমন অবস্থায় বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক দেশ ভারতকে আগামী ২৭ আগস্টের মধ্যে বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজে বের করতে হবে। বর্তমানে বিদেশ থেকে আমদানি তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে রাশিয়া থেকে। সস্তায় রাশিয়ান তেল কিনে ভারত কয়েক বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছে, যা অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মূল্যও স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে বলে দাবি করেছে দেশটি। সরবরাহকারী পরিবর্তনের ফলে তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে, কিন্তু তা না করলে ভারতের রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে ‘অন্যায় ও অযৌক্তিক‘ বলে অভিহিত করেছে নয়াদিল্লি।
গুজরাটের আহমেদাবাদে এক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধনের পর দেয়া বক্তব্যে মোদি বলেন, ‘আজকের বিশ্বে সবাই অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করছে। আমি এখানে আহমেদাবাদের মাটিতে দাঁড়িয়ে আমার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, দোকানদার ভাই-বোনদের, কৃষক ভাইদের, পশুপালনকারী ভাইদের বলছি, গান্ধীর এই ভূমি থেকে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি- ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হোক, কৃষক হোক কিংবা পশুপালক, আপনাদের স্বার্থই মোদির কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘আমার সরকার কখনোই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষক ও পশুপালকদের কোনো ক্ষতি করতে দেবে না। যতই চাপ আসুক না কেন, আমরা তা প্রতিরোধ করার শক্তি বৃদ্ধি করে যাব।’
তিনি দেশীয় পণ্যের ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের সবারই কেবল ভারতে তৈরি পণ্য কেনার মন্ত্র অনুসরণ করা উচিত। ব্যবসায়ীদের তাদের প্রতিষ্ঠানের বাইরে একটি বড় বোর্ড রাখা উচিত, যাতে লেখা থাকবে যে তারা কেবল দেশীয় পণ্য বিক্রি করে।’
ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক আরোপের ফলে রত্ন ও অলংকার থেকে শুরু করে বস্ত্রশিল্প ও সামুদ্রিক খাবার পর্যন্ত কম মুনাফার শ্রমনির্ভর শিল্পগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কৃষিখাতও ভারতের বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের উৎস এবং এটিও দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্য আলোচনার মূল জটিলতা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
সূত্র : এনডিটিভি



