‘সামরিক ব্যর্থতাকে সাফল্য হিসেবে দেখানো হয়েছে’, ভারতের তথ্যচিত্র প্রসঙ্গে পাকিস্তান

'ব্যর্থ অভিযানকে পরাজয় হিসেবে স্বীকার না করে ভারত ইতিহাসকে নিজেদের পছন্দমতো রঙে রাঙানোর চেষ্টা করছে।'

নয়া দিগন্ত অনলাইন
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি |দ্য ডন

ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্রকে ‘বলিউডধাঁচের’ প্রচারণামূলক ভিডিও আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর।

সংস্থাটি বলেছে, গত বছরের সামরিক ব্যর্থতাকে সফল অভিযান হিসেবে তুলে ধরতেই তথ্যচিত্রটি তৈরি করা হয়েছে।

পাকিস্তানে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডন মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা বিবৃতির বরাত দিয়ে জানায়, ‘মারকা-ই-হক’–এর এক বছরেরও বেশি সময় পরও ভারত কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। ব্যর্থ অভিযানকে পরাজয় হিসেবে স্বীকার না করে ভারত ইতিহাসকে নিজেদের পছন্দমতো রঙে রাঙানোর চেষ্টা করছে।

গত বছরের ২২ এপ্রিল পাহালগামে হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শুরু হওয়া স্বল্পস্থায়ী সামরিক সংঘাত ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়। পাকিস্তান এই সংঘাতকে ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ নামে অভিহিত করে। ২০২৫ সালের ৭ মে পাকিস্তানে ভারতের হামলাকে নয়াদিল্লি ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে অভিহিত করেছিল।

আইএসপিআর বলেছে, ভারতীয় নির্মাতারা ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর একটি নাটকীয়, রঙচঙে ও তথ্যগতভাবে ভুল বিবরণ তৈরি করেছে। এতে ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্য যুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচিত সাক্ষাৎকার, আবেগঘন বর্ণনা এবং বলিউডধাঁচের দৃশ্যায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত তথ্য ও সামরিক অভিযানের ফলাফল বদলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, তথ্যচিত্রে ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সেনাপ্রধানের বক্তব্যের সাথে ২২ এপ্রিলের পাহালগাম হামলার ইচ্ছাকৃত যোগসূত্র দেখানো হয়েছে, যা ‘শূন্য থেকে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দাঁড় করানোর’ চেষ্টা।

আইএসপিআর আরো প্রশ্ন তোলে, ভারত যদি দাবি করে থাকে যে পাহালগাম হামলার তিন অভিযুক্তকে ২৮ জুলাই হত্যা করা হয়েছিল, তাহলে ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুরে’ কাদের শাস্তি দেয়া হয়েছিল?

পাকিস্তানের দাবি, ‘শতভাগ মিশন সফল’ হওয়ার ভারতীয় বক্তব্যও সামরিক বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক। আইএসপিআর বলেছে, সংঘাতে পাকিস্তানের বাহিনী ভারতের আটটি সামরিক বিমান ভূপাতিত করে এবং পরে ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’-এর মাধ্যমে ২৬টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

সংস্থাটি আরো বলেছে, যুদ্ধ বন্ধ হয়েছিল দুই দেশের সামরিক অপারেশনসের মহাপরিচালকদের যোগাযোগ ও সমঝোতার মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সংঘাতের অবসানকে একতরফা ভারতীয় বিজয় হিসেবে দেখানো বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক।

আইএসপিআর-এর ভাষ্য, ‘কোনো পরিমাণ চলচ্চিত্রনির্ভর পুনর্নির্মাণ যুদ্ধক্ষেত্রের পরাজয়কে স্বঘোষিত বিজয়ে পরিণত করতে পারে না।’ পাকিস্তান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও ভবিষ্যতে যেকোনো সামরিক হঠকারিতার ‘দৃঢ়, সিদ্ধান্তমূলক ও আনুপাতিকের চেয়েও কঠোর’ জবাব দেয়া হবে বলে সতর্ক করেছে।