গত মাস থেকে নিখোঁজ। বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি তরুণীকে। অবশেষে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুর জেলার কালমেকার পরিবারের সদস্যেরা। ২৬ বছর বয়সী শিবানী কালমেকারকে খুঁজে দেয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন থানায়। নিখোঁজ ডায়েরিও করেছিলেন। পুলিশ শিবানীকে খুঁজে দিতে পারেনি। বরং তাকে ‘খুন’ করা হয়েছে ধরে নিয়ে গ্রেফতার করা হয় তার বাবা ও ভাইকে। পরে তাদের ছাড়াতে থানায় সশরীরে হাজির হতে হলো শিবানীকেই!
বুরহানপুরের খকনার থানা এলাকার বাসিন্দা শিবানী। ওই থানার ইনচার্জ অভিষেক যাদব জানিয়েছেন, তরুণী নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার থানায় ডায়েরি করেছিল। একইসাথে নিখোঁজ হন অরুণ কালমেকার নামের ওই গ্রামেরই এক যুবক। তার পরিবারও থানায় ডায়েরি করে। দু’জনের খোঁজে একসাথে তল্লাশি শুরু করেছিল পুলিশ। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে মহারাষ্ট্রের বুলদাণা জেলার রাজুরা বাঁধের কাছে এক তরুণীর মাথাহীন অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকেই তদন্তের মোড় ঘুরে গিয়েছিল।
মহারাষ্ট্রের বুলদাণা ও মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুর পরস্পর লাগোয়া দু’টি জেলা। মহারাষ্ট্র পুলিশ জানিয়ে দেয়, ওই অর্ধদগ্ধ দেহ শিবানীরই এবং তাকে খুন করা হয়েছে। মহারাষ্ট্র পুলিশ এরপর কন্যাকে খুনের অভিযোগে শিবানীর বাবা বাপুরাম কালমেকার ও ভাই অজয় কালমেকারকে গ্রেফতার করে।
ইতিমধ্যে শিবানী ও নিখোঁজ অরুণকে খুঁজে পেয়ে গিয়েছিল মধ্যপ্রদেশের পুলিশ। জানা যায়, তারা একসাথেই গ্রাম ছেড়েছিলেন। কাজের সূত্রে মহারাষ্ট্রের নাসিকে গিয়েছিলেন অরুণ। শিবানীও তার সাথে গিয়েছিলেন। বাবা ও ভাইকে ছাড়াতে শিবানী নিজেই থানায় যান এবং বৃহস্পতিবার পুলিশ তার বয়ান রেকর্ড করে ধৃতদের ছেড়ে দেয়।
এ ঘটনায় মহারাষ্ট্র পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। কেন উদ্ধার হওয়া অর্ধদগ্ধ দেহটি কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই শিবানীর বলে চালিয়ে দেয়া হলো, কেন তার ডিএনএ পরীক্ষা নিয়ম মেনে করা হলো না— উঠেছে প্রশ্ন। বুরহানপুরের বাসিন্দারাও পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা



