কাশ্মীর নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে ইসলামাবাদের তীব্র প্রতিবাদ

জম্মু ও কাশ্মীর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং কাশ্মীরি জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ড।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইসলামাবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল প্রবেশদ্বারে পুলিশ কর্মকর্তারা পাহারা দিচ্ছেন
ইসলামাবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল প্রবেশদ্বারে পুলিশ কর্মকর্তারা পাহারা দিচ্ছেন |সংগৃহীত

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর সফরকালে বিতর্কিত এই ভূখণ্ডকে 'ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ' হিসেবে বর্ণনা করায় নয়া দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের বক্তব্যে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। মার্কিন এসব মন্তব্যকে অসত্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আখ্যা দিয়ে ইসলামাবাদে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে কঠোর কূটনৈতিক প্রতিবাদপত্র দেয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, বুধবার (১৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাশ্মীরকে ভারতের অংশ বলার বক্তব্যকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান ও তীব্র নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়, জম্মু ও কাশ্মীর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং কাশ্মীরি জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ড। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং কাশ্মীর বিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত অবস্থানের পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিতর্ক ছড়ানো এই সফরের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর। পাশাপাশি, প্রকাশ্য বিবৃতিতে যেন কাশ্মীরের বিতর্কিত মর্যাদার বিষয়টি অক্ষুণ্ন রাখা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে সে নিশ্চয়তা দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে ভারত। এরপর থেকেই পরমাণু শক্তিধর এই দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক থমকে আছে। গত বছর পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে, যার জেরে দুই পক্ষ সামরিক সংঘাত ও বিমানযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মুখে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মে মাসে দুপক্ষ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।