ভারতে স্বাধীনতা দিবসে গোশত খাওয়া নিষিদ্ধ, সমালোচনার ঝড়

‘স্বাধীনতা দিবসে কী খাব, তা ঠিক করার অধিকার এবং স্বাধীনতা রয়েছে আমাদের। কী খাব, কী খাব না, তা কেউ বলে দেবে না।... কারণ, এটাই আমাদের সংস্কৃতি। এটা আমাদের হিন্দুত্ব। আমাদের বাড়িতে ঢুকছেন কেন? রাস্তার অবস্থা, গর্ত মেরামতে বরং মন দিক পৌরসভা।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
প্রতীকী ছবি

১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস। এ উপলক্ষে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় গোশত খাওয়া নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনায় সরব হয়েছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি থেকে শিবসেনা নেতা আদিত্য ঠাকরে।

বুধবার (১৩ আগস্ট) হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, স্বাধীনতা দিবসে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতা হরণের অধিকার কে দিলো- এই প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

এক্স বার্তায় আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, ‘১৫ আগস্ট গোশতের দোকান, কসাইখানা বন্ধ রাখতে যে নির্দেশ দিয়েছে দেশের বিভিন্ন পৌরসভা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে হায়দরাবাদ পৌরসভা তরফ থেকেও এমন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক পদক্ষেপ। গোশত খাওয়া এবং স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মধ্যে কী সম্পর্ক?’

তিনি আরো বলেন, ‘তেলাঙ্গানার ৯৯ শতাংশ মানুষ গোশত মাংস খান। গোশত নিষিদ্ধ করার অর্থ মানুষের স্বাধীনতা, গোপনীয়তা, জীবনযাপন, সংস্কৃতি, পুষ্টি এবং ধর্মাচারণের অধিকার হরণ করা।’

মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে জারি হওয়া একই ধরনের গোশত বিক্রির নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছেন রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। তিনি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা জারি করা ভুল। বড় বড় শহরে নানা জাতের, নানা ধর্মের মানুষের বাস। আবেগের প্রশ্নে মানুষ একদিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা মেনেও নেন। কিন্তু মহারাষ্ট্র দিবস, স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবসে এমন নির্দেশিকা জারি করলে, তা মেনে নেয়া কঠিন।’

শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরে বলেছেন, পৌরসভার কমিশনারের দায়িত্ব নয়- কে কী খাবেন তা নির্ধারণ করা।’ তার মতে, কমিশনারকে সাসপেন্ড করা উচিত।

তিনি আরো বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবসে কী খাব, তা ঠিক করার অধিকার এবং স্বাধীনতা রয়েছে আমাদের। কী খাব, কী খাব না, তা কেউ বলে দেবে না। আমাদের বাড়িতে নবরাত্রির সময় প্রসাদেও চিংড়ি এবং মাছ থাকে। কারণ, এটাই আমাদের সংস্কৃতি। এটা আমাদের হিন্দুত্ব। আমাদের বাড়িতে ঢুকছেন কেন? রাস্তার অবস্থা, গর্ত মেরামতে বরং মন দিক পৌরসভা।’

১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজ্যের, বিভিন্ন এলাকায় গোশত নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দিল্লি পৌরসভার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ওই দিন সমস্ত গোশতের দোকান বন্ধ রাখতে হবে। কসাইখানাগুলোও ওই দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগরেও একইভাবে গোশত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই নির্দেশ দিয়েছে থানের কল্যাণ-দোম্বিভ্যালি পৌরসভা। কল্যাণ-দোম্বিভ্যালি পৌরসভাজানিয়েছে, ১২ আগস্ট যদি পশুহত্যা হয়, যদি গোশত বিক্রি হয়, সেক্ষেত্রে মহারাষ্ট্র পৌরসভাআইনের আওতায় পদক্ষেপ করা হবে।

তবে, মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা মুখপাত্র অরুণ সাওয়ান্ত বলেছেন, ‘মহারাষ্ট্রে বিজেপি-শিবসেনা-এনসিপি জোট সরকার গোশত নিষিদ্ধের এ ধরনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেনি। বিরোধীরা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে এবং সরকারকে বদনাম করার চেষ্টা করছে।’

হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (জিএইচএমসি) নির্দেশিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। ওই নির্দেশে বলা হয়েছে, ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস ও ১৬ আগস্ট জন্মাষ্টমীতে সব কসাইখানা ও গোশতের দোকান বন্ধ থাকবে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস