তৃণমূল থেকে ‘অপসারিত’ মমতা, এরপরে কী?

ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিদ্রোহী’ সদস্যরা মমতা ব্যানার্জীকে দলের সভানেত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মমতা ব্যানার্জী
মমতা ব্যানার্জী |সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য ক্ষমতা হারানো তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত ভেঙে তিন টুকরো হয়ে যাওয়ার পরে দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী মমতা ব্যানার্জীকেই ‘বিদ্রোহী গোষ্ঠী’ পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।

আবার একই দিনে মমতা ব্যানার্জীকেই চেয়ারপারসন হিসেবে রেখে নির্বাচন কমিশনের কাছে পৃথক এক তালিকা জমা দিয়েছে তার গোষ্ঠী। এ নিয়ে দেশের আইন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিদ্রোহী’ সদস্যরা মমতা ব্যানার্জীকে দলের সভানেত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে আবার কিছুক্ষণ পরে ঋতব্রত বলেন, ‘আমরা চাই দিদি আমাদের পথপ্রদর্শকের দায়িত্ব পালন করবেন।’

কলকাতা-সংলগ্ন নিউ টাউনের একটি হোটেলে সোমবার ওই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ‘বিশেষ অধিবেশন’ বসেছিল।

সেখানে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর জাতীয় কর্মসমিতির ঘোষণা করা হয়। উপস্থিত ছিলেন দলের অনেক বিধায়ক ও পুরপ্রতিনিধি।

চেয়ারপারসন হিসেবে যেমন মমতা ব্যানার্জীকে রাখা হয়নি সেই তালিকায়, তেমনই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর নামও বৈঠকে উহ্য থাকে।

বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যানারে মমতা ব্যানার্জী বা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর ছবি ছিল না। ছিল মহাত্মা গান্ধী, ভীমরাও রামজি আম্বেদকর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের ছবি। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের চেনা প্রতীক জোড়াফুল ছিল সেই ব্যানারে।

গত ১৫ বছরে দলের প্রতিটি ব্যানার ও পোস্টারে সভানেত্রী মমতা ব্যানার্জীর ছবি বাধ্যতামূলকভাবেই উপস্থিত থাকত।

মমতা ব্যানার্জি সভানেত্রী নন, ‘পথপ্রদর্শক’
বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জী জানান, সাবেক মন্ত্রী এবং হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে সর্বসম্মতিক্রমে দলের নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এরপর সাংগঠনিক প্রক্রিয়া, যেমন রাজ্য কমিটি গঠন করা, পাহাড় থেকে সাগর পর্যন্ত জেলা সভাপতিসহ জেলা কমিটিগুলো গঠিত হওয়া, তার সাথে ফ্রন্টাল সংগঠনের সভাপতি নির্ধারণ করা এবং মুখপাত্রদের প্যানেল।’

মমতা ব্যানার্জীকে সভানেত্রীর পদ থেকে সরানো নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, ‘আমরা তৃণমূল কংগ্রেস। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশনে যারা উপস্থিত ছিলেন, তারা সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদের সিদ্ধান্ত আমরা খুব স্পষ্টভাবে আপনাদের জানিয়েছি।’

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জী অরূপ রায়, জাভেদ খান ও বিপ্লব মিত্রকে দলের ‘প্রথম দিনের সৈনিক’ বলে বর্ণনা করেন।

বিধায়ক সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, বিপ্লব মিত্র ও ঋতব্রত ব্যানার্জীকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন কলকাতার সাবেক মেয়র ফিরহাদ হাকিম, সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ ও সাবিনা ইয়াসমিন।

অন্যদিকে, রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান নতুন কোষাধ্যক্ষ হবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘ঋতব্রতপন্থী’ তৃণমূল কংগ্রেস।

ঘটনাচক্রে একই দিনে মমতা ব্যানার্জী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে দলের একটি পরিবর্তিত কর্মসমিতির তালিকা জমা দেন।

সেই তালিকায় দলের চেয়ারপারসন হিসেবে থাকে তার নিজের নাম এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে থাকে অভিষেক ব্যানার্জীর নাম।

দলের সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছে দলের বর্ষীয়ান নেতা সুব্রত বক্সীর নাম। তালিকায় যৌথ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয় দলের সংসদ সদস্য ডেরেক ওব্রায়েন ও দোলা সেনের নাম।

এই তালিকা থেকে বাদ রয়েছে সেই কমপক্ষে ২০ জন বিদ্রোহী সংসদ সদস্যের নামও, যারা সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আলাদা হয়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া’ নামে একটি নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সাথে মিশে যান।

ওই গোষ্ঠী আবার জানিয়েছে যে, তারা লোকসভায় ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন করবেন।

ইতোমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে যুক্ত রাজ্যসভার একাধিক সংসদ সদস্য, যেমন সুস্মিতা দেব ও সুখেন্দু শেখর রায় তাদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন এবং বিজেপি নেতৃত্বের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।

‘যা করেছি নিয়ম মেনে’
তৃণমূল কংগ্রেসের দু’টি আলাদা কর্মসমিতির তালিকা জমা পড়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর আলোচনা।

অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, আইন অনুযায়ী কোন তালিকা গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন।

তার সাথে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক এবং বিশাল সম্পত্তির দায়িত্ব কার হাতে যাবে, তা নিয়েও চলছে জল্পনা।

‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশনের পর ঋতব্রত ব্যানার্জী দলের পরিচয়-সংক্রান্ত আইনি খুঁটিনাটির বিষয়টি আত্মবিশ্বাসের সাথে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘যা টেকনিক্যালিটির ব্যাপার আছে তা নির্বাচন কমিশন সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট জায়গায় আমরা জানাব। জাতীয় কর্মসমিতি করতে হয়েছে তার নিশ্চিতভাবে টেকনিক্যাল কারণ ছিল। সেই জন্যই করতে হয়েছে। সব আইন মেনে, তৃণমূল কংগ্রেসের যা সংবিধান সব কিছুর সাথে সাযুজ্য রেখে আজকের এই অধিবেশন হয়েছে।’

মমতা ব্যানার্জীর জমা দেয়া কর্মসমিতির তালিকাকে উদ্দেশ্য করে ঋতব্রত ব্যানার্জী বলেন, ‘আইন কানুন মেনে সব করতে হয়। যাদের নাম ঘোষণা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়, তারা তার আগেই অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। পরের দিন সকালবেলা ইস্তফা দিচ্ছেন। এর মধ্যে কথিত জাতীয় কর্মসমিতির বলে যেটাকে বলা হচ্ছে তার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ইস্তফা দিয়েছেন। কাল বিধানসভায় তিনি আসবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রে যেখানে নির্বাচন কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেকোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে চলতে হবে। আমরা যা করেছি সবটাই নিয়ম মেনে এবং আমরা তা সংশ্লিষ্ট জায়গায় জানিয়ে দেবো। সর্বোচ্চ যে সংস্থা রয়েছে তার কাছে আমরা আমাদের নথিপত্র জমা দেবো।’

‘মমতাপন্থী’ বিধায়ক কুণাল ঘোষ সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি, কিছু ব্যক্তি আমাদের দলের নাম ব্যবহার করে একটি হোটেলে বিভিন্ন কার্যকলাপ চালাচ্ছেন। এটি বেআইনি, এমনটা করার কোনো অধিকার বা এখতিয়ার তাদের নেই। আমরা মনে করি, তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা ব্যানার্জী এবং মমতা ব্যানার্জী মানেই তৃণমূল কংগ্রেস।’

তিনি আরো বলেন, ‘কিছু মানুষ অসৎ উপায়ে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং চাপ সৃষ্টি করে অন্যদের নিজেদের দলে যোগ দিতে বাধ্য করছে। দিদির প্রতীক নিয়েই আপনারা বিধায়ক, সংসদ সদস্য ও কাউন্সিলর হয়েছিলেন। যদি দল ছাড়ার সাহস ও ইচ্ছা আপনাদের থাকে, তবে সেই সাহসটুকু দেখান। সরাসরি দিদির কাছে গিয়ে বলুন, ‘দিদি, আমি দল ছাড়ছি’। কিন্তু সেই সাহস আপনাদের নেই।’

ভারতের নির্বাচনী আইন কী বলছে?
কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী সৃষ্টির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কী ভূমিকা থাকবে, তার উল্লেখ রয়েছে ভারতের নির্বাচনী প্রতীক (সংরক্ষণ ও বরাদ্দ) আদেশ, ১৯৬৮-এর ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদে।

এতে বলা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে যদি কমিশন নিশ্চিত হয় যে কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দলে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী রয়েছে এবং তারা সবাই নিজেদের সেই মূল দল হিসেবে দাবি করছে, তবে কমিশন মামলার সব তথ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও বক্তব্য রাখতে ইচ্ছুক অন্যান্য ব্যক্তিদের কথা শোনার পর সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে, ওই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কোনো একটিই হলো সেই স্বীকৃত রাজনৈতিক দল।

অন্যদিকে কমিশন এ সিদ্ধান্তও নিতে পারে যে, সেগুলোর কোনোটিই সেই মূল দল নয়। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত-সংশ্লিষ্ট সব প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর ওপর বাধ্যতামূলকভাবে প্রযোজ্য হবে।

১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর ‘সাদিক আলি বনাম ভারতের নির্বাচন কমিশন’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে। যখন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কোনটি প্রকৃত দল তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন প্রতিটি গোষ্ঠীর সংখ্যাগত শক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

আদালত জানায়, সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও সংখ্যার শক্তির বিষয়টি একটি অত্যন্ত মূল্যবান ও প্রাসঙ্গিক মাপকাঠি। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বা রাজনৈতিক কাঠামোর ক্ষেত্রে সংখ্যার প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব রয়েছে এবং সেগুলোকে উপেক্ষা করা সম্ভবও নয়, আবার তা সমীচীনও নয়।

ভারতের সাবেক নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি বলেন, ‘যখন দুই গোষ্ঠী একই রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীকের ওপর দাবি জানায়, তখন নির্বাচন কমিশন সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়। সাংগঠনিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা সেই ক্ষেত্রে লেজিসলেটিভ (অর্থাৎ কতজন সংসদ সদস্য বা বিধায়ক সেই গোষ্ঠীকে সমর্থন করছেন) সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে বেশি প্রাধান্য পায়।’

তবে তিনি বলেন, মহারাষ্ট্রের শিবসেনা দলের বিভাজনের মামলায় ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিজেদের প্রকৃত দল হিসেবে দাবি করা কোনো গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কেবল ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ বিবেচনা করাই যথেষ্ট নয়। বরং দলের প্রতীকটি কাদের পাওয়া উচিত, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য নির্বাচন কমিশনকে ‘অন্যান্য মানদণ্ডও বিবেচনা করতে হবে’।

আদালত উল্লেখ করেছিল যে, শিবসেনার মতো মামলার ক্ষেত্রে ‘আইনসভায় কোন গোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তা যাচাই করা নিরর্থক’।

আদালত জানিয়েছিল, অন্যান্য মানদণ্ডের মধ্যে থাকতে পারে রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার মূল্যায়ন, দলের সংবিধান বিশ্লেষণ কিংবা অন্য কোনো উপযুক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

এছাড়া আদালত পর্যবেক্ষণ করেছিল যে, স্পিকারের সিদ্ধান্ত কেবল লেজিসলেটিভ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর ভিত্তি করে নেয়া উচিত নয়।

‘সাদিক আলি বনাম ভারতের নির্বাচন কমিশন’ মামলায় আদালত এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তিনটি পরীক্ষার কথা বিবেচনা করেছিল।

সেগুলো হলো- দলের সংবিধান ও নিয়ম বিশ্লেষণ করা, দলের লক্ষ্যের প্রতি কোন গোষ্ঠীটি বেশি অনুগত রয়েছে তা যাচাই করা এবং দলের লেজিসলেটিভ (অর্থাৎ সংসদের উভয় কক্ষ ও রাজ্যের বিধানসভা) ও সাংগঠনিক কাঠামো, উভয় ক্ষেত্রেই কোন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে তা মূল্যায়ন করা।

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক রাজ্যসভা সদস্য জহর সরকার বলেন, ‘দুই গোষ্ঠীই তৃণমূল কংগ্রেসের নামের ওপর দাবি জানাচ্ছে। একদিকে বলছে আমার সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, আরেকদিকে বলছে আমার কাছে দলের প্রতীক, নাম, সম্পত্তি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে। একই নামের ওপর যখন ডিসপিউট হয়, তখন নির্বাচন কমিশনের অবস্থান কী হবে, তা আগে থেকে বলা কঠিন।’

তিনি আরো বলেন, ‘শিবসেনার ক্ষেত্রেও আমরা এটা দেখেছি। ১৯৬৯ সালে কংগ্রেসেও আমরা এই ধরনের বিভাজন দেখেছি। একদিকে ছিল ইন্দিরা গান্ধীর অনুগত কংগ্রেস (আর) অর্থাৎ রিকুজিসনিস্টস। অপরদিকে ছিল কে কামরাজ মতো নেতাদের নেতৃত্বে পরিচালিত কংগ্রেস (ও) অর্থাৎ অর্গানাইজেশন। অর্থাৎ এইরকম রাজনৈতিক পরিস্থিতি একেবারেই নতুন নয়।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদ সদস্যদের অন্য দলে যোগ দেয়া এবং বিধায়কদের তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচয়ের ওপর দাবি জানানোর কারণে দলের বিদ্রোহী জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। এটা এক অভিনব ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: বিবিসি