ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের পহেলগাম হামলার এক বছর পার হয়ে গেলেও ভারত এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি বলে দাবি করেছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার।
বুধবার (২২ এপ্রিল) একটি টেলিভিশন বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগামে যে ভয়াবহ হামলা হয়েছিল, তা নিয়ে ভারত কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তো দিতেই পারেনি, উল্টো নিরপেক্ষ তদন্তের প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছে।
পাকিস্তানের বক্তব্য অনুযায়ী, এই হামলায় জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ ছাড়াই তড়িঘড়ি করে ইসলামাবাদের ওপর দায় চাপানো হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এটি একটি সাজানো নাটক বা ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ভারত ভবিষ্যতে এমন নাটক সাজানোর সাহস আর দেখাবে না।
নিরপেক্ষ তদন্তে ভারতের অনীহা ও ফলস ফ্ল্যাগ সন্দেহ
বিবৃতিতে আতাউল্লাহ তারার গত বছরের সেই রক্তক্ষয়ী ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেন, যেখানে পর্যটকসহ ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। ২০০০ সালের পর হিমালয় অঞ্চলে এটিকে অন্যতম বড় সশস্ত্র হামলা হিসেবে দেখা হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রস্তাব দেয়া হলেও ভারত তা গ্রহণ করতে রাজি হয়নি।
তথ্যমন্ত্রীর মতে, ভারতের এই অনীহাই অনেক বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়। তিনি মনে করেন, এই পুরো ঘটনাটি ছিল ভারতের একটি সাজানো পরিকল্পনা, যা কেবল অহংকার আর লোভ থেকে করা হয়েছে।
ভারতের এমন মানসিকতা এখন বিশ্ববাসীর কাছে ধরা পড়ে যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তদন্ত ছাড়াই দায় চাপানোর অভিযোগ
ঘটনার পরপরই যেভাবে মামলা করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আতাউল্লাহ তারার।
তিনি বলেন, ঘটনার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে কিভাবে মামলা করা সম্ভব হলো, তা নিয়ে খোদ বড় বড় থিঙ্কট্যাঙ্কগুলো প্রশ্ন তুলেছে। এছাড়া ওই এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন ছিল না, সেই উত্তরও মেলেনি। কোনো তদন্ত বা তথ্য ছাড়াই মুহূর্তের মধ্যে পাকিস্তানের নাম জড়িয়ে দেয়া হয়েছিল, যা শুধু ভিত্তিহীন অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু নয়।
পাকিস্তান নিজে দীর্ঘ সময় ধরে সন্ত্রাসবাদের শিকার উল্লেখ করে তিনি পহেলগাম হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের প্রতি সমবেদনা জানান।
তারার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, মিথ্যা প্রচার চালিয়ে বিশ্বকে আর ভোলানো যাবে না এবং আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভারত এসব প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারছে না।
সূত্র: ডন



