নেপালে আকস্মিক আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে বলে শুক্রবার বিকেলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
এর আগে মৃতের সংখ্যা ৪৮৯ জন বলে জানিয়েছিল দেশটির পুলিশ।
উভয় সংস্থাই উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে পৃথকভাবে তথ্য সরবরাহ করছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৫৩৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংস্থাটি নিখোঁজের সংখ্যাও হালনাগাদ করে জানিয়েছে, ৫১৭ জন বিদেশী নাগরিকসহ এখনো ৯৭৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলা থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে সবচেয়ে বেশি লাশ পাওয়া গেছে চিতওয়ান জেলায়।
চিতওয়ানের মধ্য দিয়ে ত্রিশূলী নদী প্রবাহিত হয়েছে, যা পরে সেতি গান্ডাকি নদীতে গিয়ে মিশেছে।
তিব্বতে বন্যায় পাঁচজনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৫৫৮
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় তিব্বতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
হ্রদের তীর ভেঙে বন্যার ‘উচ্চ সতর্কতা’ জারি করলো চীন
এদিকে, চীন সতর্ক করেছে যে, সাম্প্রতিক ভূমিধসের পর সৃষ্টি হওয়া একটি হ্রদের তীর ভেঙে যাওয়ার ‘উচ্চ ঝুঁকি’ রয়েছে, যা ভাটির দিকে দ্বিতীয় দফা বন্যার কারণ হতে পারে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত ওই বাঁধসদৃশ হ্রদে আনুমানিক ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমা হয়েছে।
বাঁধসদৃশ হ্রদ হলো এমন একটি জলাধার, যা নদীর প্রবাহ ধ্বংসাবশেষের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়ে তৈরি হয়।
চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতে, ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলে গঠিত এই বাঁধসদৃশ হ্রদটি বৃহস্পতিবার থেকেই উপচে পড়তে শুরু করেছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে সপ্তাহান্তের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি হ্রদটিতে প্রবাহিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ‘তীর ভেঙে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকি’ তৈরি করছে।
ঝুঁকির কারণে উদ্ধারকাজ কিছু সময় স্থগিত রেখে পরে আবার শুরু করে চীন।
সূত্র : বিবিসি



