ভারতে গোরক্ষকদের হিংসায় প্রাণ হারালেন আরো এক মুসলিম তরুণ

‘বজরং দল বিনা কারণে মানুষকে হয়রানি করে। প্রশাসন তাদের কথাই শোনে, সরকারও তাই করে। আমাদের কাছে তো শুধু জীবনটাই আছে, তারা চাইলে সেটাও কেড়ে নিতে পারে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আমিরের পরিবারের আহাজারি
আমিরের পরিবারের আহাজারি |সংগৃহীত

ভারতে আবারো সাম্প্রদায়িকতার শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন এক মুসলিম তরুণ। দেশটির কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দলের কয়েকজন সদস্য তাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (৯ মার্চ) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওই তরুণের নাম মো: আমির (২৮)। হরিয়ানার পাল্লা গ্রামের বাসিন্দা ওই তরুণকে রাজস্থানের ভিওয়াড়ি এলাকায় গরু পাচারের অভিযোগে হত্যা করা হয়।

এ প্রসঙ্গে মো: আমিরের চাচা জুবাইর বলেন, ‘সে নিজের পিকআপ নিয়ে কাজে গিয়েছিল। বজরং দল ও গোরক্ষার নামে কয়েকজন সন্ত্রাসী তাদের গাড়ি দিয়ে তার পিকআপে ধাক্কা মারে। গাড়ি থামতেই কোনো কথা না বলেই তার মাথায় গুলি তাকে হত্যা করা হয়।’ গত ২ মার্চ রাতে এই নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয় বলে জানান জুবাইর।

জুবাইর আরো বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা আরেকজন ব্যক্তি গুরুতর জখম হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। হামলাকারীরা এরপর সেখান থেকে পালিয়ে যায়। জুবাইর দাবি করেন, আমির একজন পিকআপচালক। গরু পাচারের সাথে তার কোনো সম্পর্কই ছিল না।

জুবাইর মনে করেন, আমিরকে শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণেই হত্যা করা হয়েছে এবং গরু পাচারের অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এলাকায় মুসলিমদের প্রায়ই এ ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়।

তিনি আরো বলেন, ‘বজরং দল বিনা কারণে মানুষকে হয়রানি করে। প্রশাসন তাদের কথাই শোনে, সরকারও তাই করে। আমাদের কাছে তো শুধু জীবনটাই আছে, তারা চাইলে সেটাও কেড়ে নিতে পারে।’

তবে পুলিশ বলছে, আমিরের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো তদন্তাধীন এবং ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, এ এলাকায় গোরক্ষার নামে সহিংসতার তালিকা দীর্ঘ। উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা বেছে বেছে সাধারণ মুসলিমদের হত্যা করে চলেছে দিনের পর দিন। সেই নিহত মুসলিমদের তালিকায় যোগ হলো মো: আমিরের নাম। ২০১৭ সালে এই জেলাতেই দুধ-বিক্রেতা পেহলু খানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এরপর ২০১৮ সালে একই এলাকায় গবাদি পশু পরিবহনের সময় রকবর খানকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে হরিয়ানার নুহের বাসিন্দা জুনাইদ ও নাসিরের দেহ রাজস্থানে একটি গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হয়।